ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়ে (ইবি) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দলের সভাপতি ও সম্পাদকসহ  প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ইবি ছাত্রলীড়ের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে আটক করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বিদ্রোহী কর্মীদের দ্বারা অবাঞ্চিত হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে আসেন। তাদের কিছু নেতকর্মী সকাল থেকেই প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। এদিকে সভাপতি-সম্পাদককে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধার দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা-কর্মীরা। এরপর সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রধান ফটকে অবস্থান নেওয়া সভাপতি-সম্পাদকের কর্মীদের ওপর হামলা করে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা-কর্মীরা। এতে অন্তত তিন জন আহত হয়।

এরপর বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে অবস্থান নেয়। দুপুর দেড়টার দিকে সভাপতি ও সম্পাদক কয়েকজন কর্মীসহ মিছিল নিয়ে পুনরায় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আসে। এ সময় পুনরায় বিদ্রোহী গ্রুপের অনুসারী বিপুল, অনিক, হিমেল চাকমা, নীল, আলামিন জোয়াদ্দার, শাহজালাল সোহাগ, আদিত, আবিরসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী সশস্ত্র অবস্থায় হামলা করে তাদের ওপর। এতে সম্পাদক রাকিবের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। এ সময় প্রধান ফটকের সামনে অন্তত ৩টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে অন্তত ২৫জন নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরতর আহত কয়েকজনকে কুষ্টিয়া শহরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সভাপতি-সম্পাদক ক্যাম্পাস এরিয়া থেকে চলে গেলে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা কর্মীরা প্রধান ফটকের সামনে কুষ্টিয়া-খুলনা মহসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে তীব্র যনজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ করে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা-কর্মীরা।

এ বিষয়ে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, ‘ঘটনাস্থালে আমি ছিলাম না। এই কমিটি অর্থের বিনিময়ে হওয়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা মেনে নিতে পরেনি। পলাশ-রাকিব বহিরাগত সন্ত্রাসীসহ ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করলে কর্মীরা প্রতিহত করে। এতে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে জেনেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিসুর রহমান বলেন, ‘পূর্ব থেকে গোয়োন্দা তথ্য ছিল- ছাত্রলীগ এমন কিছু ঘটাতে পারে। তাই আমারা সকাল থেকেই প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করেছিলাম। র‌্যাবের টহলও ছিলো। সেই সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গির আরিফ বলেন, ‘আমরা পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থালে ছিলাম। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

এ ঘটনায় হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সেলিনা নাসরিনকে আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক তপন কুমার জোয়াদ্দার ও অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপিকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন।