ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ২০ জনের সব সম্পদ ক্রোক, ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি কোম্পানি পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এ ছাড়া আদেশে পিকে হালদারকে দেওয়া ঋণসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র এবং অভিযুক্ত ২০ জনের সম্পদের হিসাব আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দুদক সম্প্রতি মামলা করেছে। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহরিয়ার কবির এবং কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন।

পিকে হালদারের পাশাপাশি আরও যে ১৯ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- কোম্পানির চেয়ারম্যান এমএ হাসেম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, মোমতাজ বেগম, নওশেরুল ইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, আবুল হাসেম, মো. রাশেদুল হক, পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, ভাই প্রিতুষ কুমার হালদার, চাচাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদ এবং পিকে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী।

এমএম স্টাকচারাল লিমিটেড কোম্পানি ৮ কোটি টাকার দাবিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। ওই মামলার শুনানি নিয়ে আদালত মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে পিকে হালদারের দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, পিকে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। এ দুই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ব্যাংকবহির্ভূত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল করেন। এর মধ্যে একটি হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড। দখল করা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে টাকা সরিয়ে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই চার প্রতিষ্ঠানের একটি এখন বিলুপ্তির পথে, বাকি তিনটিও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। অবৈধ ব্যবসা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌনে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে ৮ জানুয়ারি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।