ইভিএম অধ্যাদেশ সংসদে পাসের তথ্য জানতে নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ সংসদে পাস হয়েছে কি-না, তা জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

গত ৯ জানুয়ারি ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচন না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটে ইভিএম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ এবং এর বিধিমালার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়। রিটে মন্ত্রিরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, আইন সচিব ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

রিটে বলা হয়, ‘ইভিএম সংক্রান্ত আইন সংসদে পাস হয়নি এবং আরপিও ধারা ২৬(এ) অনুযায়ী ইভিএম বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং এ আইন জরুরি ছিল না। এটি সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, অনুচ্ছেদ ৯৩ বলে কেবলমাত্র জরুরি প্রয়োজনে সংসদ না থাকলে অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। ২০১৮ সালে যেহেতু সংসদ বহাল ছিল, তাই ইভিএমের বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা জরুরি ছিল না। তার পরও ২০১৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ছয়টিতে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে এবং অন্যান্য আইনে জনগণের সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার বিধান আছে, যন্ত্রের মাধ্যমে অর্থাৎ ইভিএমে নয়। যন্ত্রের মাধ্যমে প্রকৃত ভোটার যাচাই-বাছাই করা যেতে পারে; কিন্তু ভোট ব্যালটের মাধ্যমেই সরাসরি দিতে হবে।’

রিটে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে ইভিএম নেই। তা ছাড়া ইভিএম সংক্রান্ত আইন পাসের বিষয়ে গণভোটও নেওয়া হয়নি। তাই ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের বিষয়টি সংবিধানের ৭, ১১, ১৯, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৯৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।