এইচআরডব্লিউর বিবৃতি

মিয়ানমারের কমিশনের রিপোর্ট জাতিসংঘের তদন্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২০      

অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারের কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা জাতিসংঘের তদন্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নৃশংসতার ভয়াবহতার বিষয় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে ২১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছে দেশটির কথিত স্বাধীন কমিশনের ১৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার। প্রতিবেদনটি নিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এখনও ওই তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, মিয়ানমার প্রথমবারের মতো রাখাইনে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার ভয়াবহভাবে লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করেছে। তবে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির যুদ্ধাপরাধের এই স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের বিচার করে তাদের নিজ দেশে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির কোনো অঙ্গীকার করেনি দেশটি।

মানবাধিকার সংগঠনটি আরও বলেছে, মিয়ানমারের কমিশনের প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে জাতিগত নিধন অভিযানে সেনাবাহিনীর অপরাধ স্বীকার করা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী যে ভয়াবহ নিপীড়ন করেছে, সে বিষয়ে এতে নজর দেওয়া হয়নি। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার বা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য যথাযথ পরিস্থিতি সৃষ্টির দিক থেকে দেশটির তথাকথিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদন যে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে সে বিষয়ে মিয়ানমারের দাতাদের ও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর এই পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত।

জাতিসংঘের নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ও এইচআরডব্লিউসহ বিভিন্ন অধিকারবিষয়ক গ্রুপের তদন্তে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের ধর্ষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে বিস্তৃত তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ হয়েছে। তা সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকারের এই তদন্তে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গণধর্ষণের কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, মিয়ানমার সরকার দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীর পক্ষ অবলম্বন করেছে। তাদের নিজস্ব কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, তারা দীর্ঘদিনের সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অনেক হতাশাজনক।

তিনি আরও বলেছেন, মিয়ানমারের কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা জাতিসংঘের তদন্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নৃশংসতার ভয়াবহতার বিষয় প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। হতাশাজনকভাবে সেনাবাহিনীর যৌন সহিংসতার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর দায়ী সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারেও ব্যর্থ হয়েছে তারা। ব্যাপক অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির বিশ্বাসযোগ্য ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেনি মিয়ানমার সরকারের ওই তদন্ত প্রতিবেদন।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, ওই কমিশন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই কমিশনের তদন্তে স্বচ্ছতা প্রতিফলিত হয়নি। তাদের প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে, মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করেছে।