রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চীন-রাশিয়াকেও ভাবতে হবে: শহীদুল হক

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২০   

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের ফলে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রকেও নতুন করে ভাবতে হবে। এ সংকটকে পাশ কাটানোর জন্য যা খুশি তাই আর বলতে পারবে না।

তিনি বলেন, এতদিন রোহিঙ্গা সংকটের গভীরতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশকে নানাভাবে তৎপরতা চালাতে হয়েছে। এখন সেই ভার আন্তর্জাতিক আদালত নিয়েছেন। কারণ রায় অনুযায়ী মিয়ানমারকে প্রতি ছয় মাস অন্তর আদালতের কাছে রাখাইন পরিস্থিতি তুলে ধরতে হবে।

শনিবার বিকেলে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস)' এবং 'সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসএআইপিজি)' আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদুল হক বর্তমানে সিপিএস ও এসএআইপিজির সিনিয়র ফেলো। আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনোয়িত প্রেফনটেইন। 'অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড জাস্টিস ইন রোহিঙ্গা ক্রাইসিস' শিরোনামের এ আলোচনায় ঢাকায় কর্মরত কূটনৈতিক প্রতিবেদকের সংগঠন 'ডিক্যাব' সদস্যরাও অংশ নেন।

শদীদুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের রায়ের আগে রোহিঙ্গা সংকটের এক ধরনের তাৎপর্য ছিল। রায়ের পর সেটা বদলে গেছে। রায়ের ফলে মিয়ানমার নিজেই এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সম্মানজনকভাবে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হতে পারে। কারণ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায় এড়াতে তারা এ সংকটের দ্রুত সমাধানের বিষয়টিতেই গুরুত্ব দেবে, এটাই যুক্তিসংগত। একইভাবে চীন, রাশিয়ার মতো দেশ যারা মিয়ানমারের সুরেই কথা বলেছে, তাদেরও এখন নতুন করে ভাবতে হবে। আগের মতো চট করেই একটা বিবৃতি তারা দিতে পারবে না। কারণ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এ রায়ের অংশীদার তারাও।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, এর বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে। সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রোহিঙ্গাদের অধিকারসহ নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই।

কানাডার হাইকমিশনার বেনোয়িত প্রেফনটেইন বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই কানাডা গণনিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মিয়ানমার মেনে চলবে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে পদক্ষেপ নেবে- এটাই এখন প্রত্যাশা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে যারা এ সংকটকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি, তারাও এখন যথাযথ গুরুত্ব দেবে বলে আশা করেন তিনি।