বাংলাদেশে ১৩ শতাংশ শিশুর মৃত্যু নিউমোনিয়ায়: ইউনিসেফ

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া- ফাইল ছবি

বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া- ফাইল ছবি

নিউমোনিয়া বাংলাদেশে শিশুদের অন্যতম বড় ঘাতক এবং বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর ১৩ শতাংশই হয় নিউমোনিয়ার কারণে।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে বুধবার ইউনিসেফ বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের কারণে নিউমোনিয়া হয় এবং এই রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের ফুসফুস পুঁজ ও তরলের ভরে যায়, যার কারণে তাদের নিঃশ্বাস নিতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। এই রোগটি বাংলাদেশে শিশুদের অন্যতম বড় ঘাতক, যার কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৩ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয়। নিউমোনিয়া মোকাবিলায় আরও পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী দশকে বাংলাদেশে ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

৯টি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য ও শিশুদের সংস্থার আয়োজনে বুধবার স্পেনের বার্সেলোনায় শৈশবকালীন নিউমোনিয়া বিষয়ক প্রথম বৈশ্বিক ফোরাম শুরুর আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংস্থাগুলো হচ্ছে- আইএসগ্লোবাল, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউনিসেফ, এভরি ব্রেথ কাউন্টস, লা কাইশা ফাউন্ডেশন, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, ইউএসএইড, ইউনিটাইড ও ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স জিএভিআই

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষণে দেওয়া পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে যে হারে শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে সেই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকজুড়ে এদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ লাখের বেশি শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যেতে পারে। তবে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জোরদার করার মাধ্যমে আনুমানিক ৪৮ হাজার শিশুর মৃত্যু এড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া নিউমোনিয়া মোকাবিলায় প্রচেষ্টা জোরদার করা হলে তার এর বাইরে একটি ‘রিপল ইফেক্ট’ তৈরি করতে পারে, যা একই সঙ্গে অন্যান্য বড় ধরনের শৈশবকালীন রোগে আরও ৯২ হাজার শিশুর মৃত্যু ঠেকাতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের পুষ্টির উন্নতি, অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান ও টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং স্তন্যপানের হার বাড়ানো– এই পদক্ষেপগুলো নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এই হস্তক্ষেপগুলো ডায়রিয়া (২৫ হাজার), সেপসিস (৩ হাজার) ও হামের (৩৩ হাজার) মতো রোগে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুও ঠেকাতে পারে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি