করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীনের উহান নগরীতে আটকেপড়া ৩৬১ জন বাংলাদেশিকে আনতে একটি বিশেষ ফ্লাইটে শুক্রবার বিকেলে চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবে। ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের সবাইকে আশকোনো হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

পর্যবেক্ষণের এই সময়টাতে তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য স্বজনরা যাতে ব্যাকুল না হন এজন্য তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। তিনি বলেন, চীন থেকে যারা ঢাকা আসছেন, তাদের খবর টাইম টু টাইম জানানো হবে। হজ ক্যাম্পে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

উহানে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি জানাতে শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আশকোনায় পর্যবেক্ষণে যাদের সুস্থ পাওয়া যাবে, তাদের বাড়ি যেতে দেওয়া হবে। আর কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের আনার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তারা দেশের সন্তান, তাদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব আমাদের। তবে কেউ যদি সংক্রমিত হয় তা যেন ছড়িয়ে না পড়ে, আমাদের দেশ যাতে নিরাপদে থাকে, এটা দেখাও আমাদের দায়িত্ব। সেজন্য সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছি।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রছাত্রীদের দুগর্তির কথা শুনে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের স্বদেশে নিয়ে আসার জন্য। চীন সরকার বলেছিল ১৪ দিন আগে তাদের রিলিজ করবে না। গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমাদের জানিয়েছে তাদের পাঠানোর জন্য একটা পকেট পেয়েছে। সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা আনানোর ব্যবস্থা করেন।

বিশেষ এ ফ্লাইটে চীন থেকে দেশে ফিরতে ১৯টি পরিবার ও ২০ শিশুসহ ৩৬১ জন নিবন্ধন করেছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, খুব সেনসিটিভলি এদের হ্যান্ডেল করব, কোয়ারেন্টাইনে রাখব। এই সময় পরিবারের কেউ যেন দেখা করার চেষ্টা না করেন। এরা কেউ অসুস্থ না, কিন্তু আমরা জানি না…।

মন্তব্য করুন