বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসব

শুরু হলো নিবন্ধন

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার সমকালের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসবের নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আয়োজকরা -সমকাল

বৃহস্পতিবার সমকালের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসবের নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আয়োজকরা -সমকাল

প্রতীক্ষার দিন শেষ! সারা দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আবারও শুরু হচ্ছে জীববিজ্ঞান উৎসব। শুরু হলো অনলাইন রেজিস্ট্রেশন। তোমরা প্রস্তুত তো?

অমিত সম্ভাবনার তরুণ প্রজন্মকে জীববিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়ার প্রত্যাশায় আবারও শুরু হচ্ছে 'বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসব ২০২০'। বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড (বিডিবিও) এবং সমকালের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য উৎসবের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সমকাল সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় উদ্বোধন করেন আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। উৎসব আয়োজনে বিশেষ সহযোগী হিসেবে রয়েছে কথাপ্রকাশ এবং কারিগরি সহযোগী ল্যাববাংলা।

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সভাপতিত্বে আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া, অলিম্পিয়াড কোচ অধ্যাপক রাখহরি সরকার, টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন, কথাপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন, বিডিবিওর সাধারণ সম্পাদক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক তারিক রহমান, আব্দুল্লাহ কাইয়ুম, সমকালের সহযোগী সম্পাদক সবুজ ইউনুস, বার্তা সম্পাদক মশিউর রহমান টিপু, নগর সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, ল্যাববাংলার নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী অনিরুদ্ধ প্রামাণিক প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, একটি শুভ কাজে আমরা সবাই সহযাত্রী। গত বছর আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে আমাদের টার্গেট ছিল স্বর্ণপদক। আমরা তিনটি ব্রোঞ্জপদক লাভ করেছি। বিজ্ঞানমনস্ক একটি সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। বাঙালির মূল শক্তি আত্মশক্তি- এ শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমরা একাত্তরে জয়ী হয়েছি। সব বাধা উপেক্ষা করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকলে অন্ধকার দূর হয়। সমাজ বাস্তবতায় বিজ্ঞান শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। বিজ্ঞান শিক্ষার নিম্নমুখী প্রবণতা দূর করতে হবে। তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিজ্ঞানমনস্ক একটি সমাজ গঠনে এগিয়ে যেতে হবে। একটি নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশায় এবারের জীববিজ্ঞান উৎসবের যাত্রা শুরু হলো।

মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, স্কুল-কলেজে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এখনও আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানের খুব সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই। বিশ্বে নলেজ ইকোনমিতে এখনও আমরা তলানিতে আছি। আমরা নতুন নতুন বিষয়ে শিখছি, কিন্তু নতুন উদ্ভাবন নেই। প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞানে আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিজ্ঞানে আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। সঠিক আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে জীববিজ্ঞান উৎসবের মতো অনানুষ্ঠানিক শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাব।

রাখহরি সরকার বলেন, তরুণদের জন্য জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড একটি অনন্য সুযোগ। বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি করেই বিজ্ঞান শিক্ষায় তরুণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে হবে। আমরা বিজ্ঞানসম্মত একটি জাতি গড়ে তুলতে চাই। বিজ্ঞানে ব্যবহারিক দিককে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব উদ্দিন বলেন, জীববিজ্ঞানের মতো বড় ও ভালো কাজের সঙ্গে থাকতে পেরে ভালো লাগছে। জীববিজ্ঞান ছাড়া কিছু চিন্তা করা যায় না। জীববিজ্ঞান নিয়ে বছরজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। আমাদের সবার বিজ্ঞানের প্রসারে কাজ করতে হবে।

জসিম উদ্দিন বলেন, জীববিজ্ঞান উৎসব একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বিজ্ঞান শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। সমকাল ও বিডিবিওর সঙ্গে বিজ্ঞানসম্মত একটি সমাজ গঠনে এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় আমরা এখন অনেক এগিয়ে। ৩০তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (আইবিও) বাংলাদেশের তিন মেধাবী মুখ ব্রোঞ্চপদক লাভ করেছে।

ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত বছর আমাদের অর্জন অসামান্য। শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে ভেন্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বছর অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

সবুজ ইউনুস বলেন, এ যুগের মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থীরা ভালো ফল বয়ে আনবে; বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে।

শাহেদ চৌধুরী বলেন, সমকাল সব সময় বিজ্ঞানের সঙ্গে আছে। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বিজ্ঞান শিক্ষায় আমাদের সন্তানরা দক্ষ হয়ে উঠবে।

বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসব, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানবিষয়ক মেধা যাচাইয়ের এ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাটি তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হবে। জুনিয়র ক্যাটাগরি (ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি বা সমমান), সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি (নবম-দশম শ্রেণি বা সমমান) ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি বা সমমান) রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এক প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক প্রতিযোগী অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগীরা এমসিকিউ ও লিখিত পদ্ধতিতে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হবে। আঞ্চলিক ও জাতীয়- এ দুটি ভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশকে ১২টি অঞ্চলে বিভক্ত করে ১২টি আঞ্চলিক অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। অঞ্চলগুলোর অধীন প্রতিটি জেলা থেকে প্রতিযোগী অংশ নিতে পারবে। প্রতিটি অঞ্চল থেকে সেরা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ দল নির্বাচন করা হবে। বিজয়ীদের ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যারা আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি, বিজ্ঞানবিষয়ক আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দের মধ্য দিয়ে জানবে জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক। ভীতি দূর হয়ে তাদের মধ্য দিয়ে জাগ্রত হবে বিজ্ঞান বিষয়ে কৌতূহল, যা ভবিষ্যতের বিজ্ঞান শিক্ষাকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া: উৎসবে অংশ নিতে হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। registration.bdbo.net এই ঠিকানায় প্রবেশ করলে পেমেন্ট পদ্ধতি ও আবেদনের শর্ত প্রদর্শিত হবে। আই অ্যাগ্রি অপশনে ক্লিক করে নেক্সট অপশনে গেলে ব্যক্তিগত ও একাডেমিক তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে মেসেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের লিঙ্ক চলে আসবে। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য অ্যাডমিট কার্ডে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা প্রতিনিধির নম্বর দেওয়া থাকবে।

উৎসব পরিক্রমা: আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুর অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে; ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কুমিল্লা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- কুমিল্লা জেলা স্কুলে; ২৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও কলেজে; ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে; ৬ মার্চ বগুড়া অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল ও কলেজে এবং ঢাকা উত্তর অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে; ১৩ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে; ১৪ মার্চ পটুয়াখালী অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং খুলনা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। অঞ্চল পর্যায়ের বিজয়ীদের নিয়ে ২০ মার্চ জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পর্বে বিজয়ীদের নিয়ে ২৫ ও ২৮ মার্চ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত ক্যাম্প শেষে চারজন মেধাবীকে বেছে নেওয়া হবে; যারা আগামী ৩ ও ১১ জুলাই জাপানের নাগাসাকি শহরে অনুষ্ঠিতব্য ৩১তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।