সৈয়দ আশরাফের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২০   

 সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কবরে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সকাল ৮টায় প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের         -ফোকাস বাংলা

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কবরে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সকাল ৮টায় প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের -ফোকাস বাংলা

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা এবং প্রয়াত এই নেতার পৈতৃক গ্রামের বাড়ি ও নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

এদিন রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কবরে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সকাল ৮টায় প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দলের পক্ষে সৈয়দ আশরাফের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামছুন্নাহার চাঁপা, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এদেশের একজন বিরল রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সৈয়দ নজরুল ইসলামের এই সুযোগ্য পুত্র আওয়ামী লীগের পরপর দু'বার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের জন্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার ত্যাগ-তিতিক্ষা জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে সৈয়দ আশরাফ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একজন পারফেক্টম্যান ছিলেন তিনি। তার জীবন থেকে আমাদের সবারই শিক্ষা নেওয়ার আছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সৈয়দ আশরাফের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী তখনই সার্থক হবে যদি আমরা তার মতো আচরণে বিনয়ী, নম্র এবং বাস্তব জীবনে সৎ হতে পারি। আজ (শুক্রবার) সৈয়দ আশরাফের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। এখান থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও শিক্ষা নিতে পারবে।

এ সময় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তার বোন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর।

আওয়ামী লীগের পর একে একে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, আওয়ামী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ ও সৈয়দ আশরাফ স্মৃতি পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কিশোরগঞ্জ অফিস জানায়, সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পৈতৃক গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের বীরদামপাড়া গ্রামে পারিবারিকভাবে দোয়া ও মিলাদ মহফিলের আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল করেছে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্‌ আজিজুল হক, সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী প্রমুখ। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ মহিলা এতিমখানায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এ সময় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিলকিস বেগমসহ নারীনেত্রী ডা. রুবী ইসলাম, অধ্যক্ষ গুলশান আরা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জেলা ছাত্রলীগ ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ কর্মসূচি পালন করে।

এ ছাড়া প্রয়াত এই নেতা নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) উপজেলার সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।