ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও প্রকল্পের অর্থছাড়সহ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি থেকে পৃথক চিঠির মাধ্যমে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে একান্ত জরুরি কোনো ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালানোর প্রয়োজন হলে ইসির অনুমোদন সাপেক্ষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিতরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও ত্রাণ বিতরণের কোনো কার্যক্রম আগে থেকে চলমান থাকলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালানো যাবে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। 

শনিবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় রকার বিভাগের সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, 'আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে ভোট হবে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে ফল প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান দিতে বা অঙ্গীকার করতে পারবে না। এই আইন অমান্য করলে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।'

চিঠিতে আরও বলা হয়, 'নির্বাচনী কার্যক্রম প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রার্থী সংশ্নিষ্ট সিটি করপোরেশনের কোনো সম্পত্তি তথা অফিস, যানবাহন, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ওয়াকিটকি বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। এসব সামগ্রী ভাড়ায়ও ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তাছাড়া, কোনো প্রার্থী সিটি করপোরেশনের দরপত্র আহ্বান, গ্রহণ কিংবা বাতিলের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।'

চিঠিতে বলা হয়, 'নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করতে পারবে না। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি বা আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান ঘোষণা, বরাদ্দ বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারবে না। সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর বা অন্য কোনো পদাধিকারী সংশ্নিষ্ট করপোরেশন এলাকায় উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্প অনুমোদন বা আগের অনুমোদিত প্রকল্পে কোনো অর্থ ছাড় করতে পারবে না।'