আবরার হত্যা: পলাতক ৪ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২০      

 আদালত প্রতিবেদক

মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মাহমুদুল জিসান, মুজতবা রাফিদ ও এহতেশামুল রাব্বি তানিম

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার পলাতক চার আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কায়সারুল ইসলামের আদালত এ নির্দশ দেন।

একইসঙ্গে এ মামলার পরবর্তী তারিখ ১৩ জানুয়ারিতে ওই পত্রিকা (প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিসহ) আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েতউদ্দিন খান হিরণ এ তথ্য জানিয়েছেন। একই আদালতে মামলার আরেক আসামি মনিরুজ্জামান মনিরের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদনও করা হয়েছে এদিন।

পলাতক আসামিরা হচ্ছে—বুয়েটের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র মাহমুদুল জিসান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মুজতবা রাফিদ।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পলাতক চার আসামির সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। ক্রোকের বিষয়ে পরোয়ানা তামিলের জন্য ৫ জানুয়ারি (২০২০) দিন ধার্য করেন আদালত।

বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন আবরারের বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। গত ১৩ নভেম্বর ডিবির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে  ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এই ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং এর বাইরে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আরও  ৬ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং এজাহারবহির্ভূত ৬ জনের মধ্যে ৫ জন— অর্থাৎ ২১ আসামিকে  গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয় এবং ২১টি আলামত ও ৮টি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।