কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে আদেশ যথাযথভাবে পালন না করায় চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ জানুয়ারি তাকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন।

শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, ইদানীং দেখা যায়, অনেক কর্মকর্তা আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছেন।

আদালতে কর্ণফুলী নদী তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ নিজেই শুনানি করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে ২০১৬ সালে ডেপুটি কমিশনারসহ পাঁচ বিবাদীকে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। আর এখন যে জায়গাগুলোতে অবৈধ স্থাপনা আছে, সে জায়গাগুলো মূলত বন্দরের।

তিনি বলেন, এ জন্য আদালতের কাছে নির্দেশ প্রার্থনা করেছিলাম, বন্দরের চেয়ারম্যানকে একটা নির্দেশ দেওয়ার জন্য। পরে গত বছরের ৯ এপ্রিল হাইকোর্ট বন্দরের চেয়ারম্যান ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দফায় দফায় সময় নিয়েও সংশ্নিষ্টরা উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ করেননি। যে কারণে হাইকোর্ট বন্দরের চেয়ারম্যানকে আগামী ২৬ জানুয়ারি তলব করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ দখল সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে ওই সব প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।

এরপর ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট কর্ণফুলী নদীর তীরে থাকা দুই হাজার ১৮৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ১১ দফা নির্দেশনা দেন।

নানা প্রক্রিয়ার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী নদীর পাড়ের দুই হাজার ১৮৭ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু বিভিন্ন মহলের চাপে ওই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত এপ্রিলে আবারও হাইকোর্টে আবেদন করে রিটকারী পক্ষ।