নাজমুল হুদার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

সিগমা হুদা

সিগমা হুদা

দেশ থেকে অর্থ পাচার করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগে বিএনএ চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার স্ত্রী সিগমা হুদা ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে দু'টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বৃহস্পতিবার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহ বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ আলাদাভাবে মামলা দুটি দায়ের করেন।

জানা গেছে, অভিযুক্তরা সরকারের কাছে ঘোষণা না দিয়ে বা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি না নিয়ে যুক্তরাজ্যে অর্থ পাচার করে লন্ডনের আলাদা স্থানে দু'টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, নাজমুল হুদার স্ত্রী ও মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদা ৩ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে লন্ডনের বারউড প্যালেসের দি ওয়াটার গার্ডেনসে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। বিদেশে ওই পরিমাণ পাউন্ডের সমমূল্যের টাকায় ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে তিনি সরকারের কাছে কোনো ধরনের ঘোষণা দেননি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। ওই পরিমাণ অর্থ পাচার করে বিদেশে ওই ফ্ল্যাটটি ক্রয় করেছেন বলে অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিগমা হুদা ও আরেক মেয়ে শ্রাবন্তী আমিনা হুদা লন্ডনের হেনলে কোর্ট এলাকার দেনহাম রোডে ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। ওই পরিমাণ বিদেশি মুদ্রার সমপরিমাণ অর্থে লন্ডনে ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে সরকারের কোনো দপ্তরে কোনো ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। ওই অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, তারা বিদেশে অর্থ পাচার করে সম্পদ অর্জন করে দুদক আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা ও কন্যা অন্তরা সেলিমা হুদা সিঙ্গাপুরের ওভারসিয়া-চাইনিজ ব্যাংকিং করপোরেশনে (ওসিবিসি) হিসাব পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে তাদের হিসাব বন্ধ রয়েছে। অন্তরা সেলিমা হুদা ওসিবিসি ব্যাংকে ৩টি হিসাব পরিচালনা করছেন। এই ব্যাংকে অন্তরা সেলিমা হুদার হিসাব নম্বর-৫৯১৮৮৬৬৫০০০১-তে ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত বেশির ভাগ চেকের মাধ্যমে অর্থ জমা করেছেন। তৃতীয় পক্ষের অনুকূলে ট্রান্সফার ও আউট ওয়ার্ড রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলিত হয়েছে।