ধর্ষক মজনুকে নিয়ে ক্রাইম সিনে ডিবি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ     

আতাউর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মজনুকে নিয়ে রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকার ক্রাইম সিনে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার তাকে নিয়ে ডিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। ওই সময় মেয়েটির বাস থেকে নামা শুরু করে ধর্ষণ ও পরবর্তী সময়ে তার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি গতকালই তদন্ত সংস্থা ওই ছাত্রীকে আদালতে হাজির করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানায়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) অনুমতি সাপেক্ষে পরে তার দেওয়া বিস্তারিত বর্ণনা রেকর্ড করা হয়। এদিকে ধর্ষক মজনু  জানিয়েছে, সে একাই মেয়েটির ওপর পৈশাচিকতা চালায়। পাশবিকতার শিকার শিক্ষার্থীও বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি একাই তার ওপর বর্বরতা চালিয়েছে। তদন্ত সংশ্নিষ্ট ডিবি সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, মেয়েটি ঘটনার দিন বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাসে ওঠা, কুর্মিটোলায় নামা এবং পরবর্তীতে তার ওপর ঘটে যাওয়া সব বিবরণ দেন। তিনি কীভাবে পালিয়ে ফিরলেন সে কথাও জানান। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বারবারই চোখের পানি মুছছিলেন তিনি।

ঘটনার শিকার ছাত্রী ডিবি কর্মকর্তাদের বলেছেন, কোনো নরপশুর এমন হিংস্রতায় তিনি দমে যাবেন না। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন এবং ক্যাম্পাসে নিয়মিত হবেন। তিনি শুধু চান এমন ঘটনা আর কোনো মেয়ের জীবনে যাতে না ঘটে। তার ওপর চালানো বর্বরতায় জড়িত ওই ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং এ জন্য তিনি তদন্ত সংস্থাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।

গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ঢাবির ওই ছাত্রী রাজধানীর শেওড়া এলাকায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার জন্য ক্যাম্পাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি ভুলে শেওড়ার অদূরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে নামেন। তিনি ফুটপাত ধরে হাঁটার সময় পেছন থেকে এক ব্যক্তি তাকে অদূরেই গলফ ক্লাবসংলগ্ন ঝোপের ভেতর তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে ধর্ষক তার ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ঢাবি ক্যাম্পাসসহ সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ধর্ষককে আসামি করে মামলা করা হয়। তুমুল প্রতিবাদের মধ্যে বুধবার ভোরে র‌্যাব ওই ধর্ষণের ঘটনায় মজনু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলে তদন্ত সংস্থা ডিবি তাকে গত বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ তদন্ত করছে।

ডিবি উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, রিমান্ডে থাকা মজনুকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি স্পর্শকাতর ওই মামলাটি সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে (ক্রাইম সিন) যান তদন্ত কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ঘটনার শিকার মেয়েটিকে আদালতে নিয়ে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারের পর মজনুর কাছ থেকে যে মোবাইল ফোন সেটটি উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি মেয়েটিকে দেখানো হয়েছে। উদ্ধার করা ফোন সেটটি নিজের বলে ভিকটিম শনাক্ত করেছেন।

ডিবির তদন্ত সংশ্নিষ্ট অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার মজনু মেয়েটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু মুখের কথায় বিশ্বাস করলেও বৈজ্ঞানিক তদন্তের পথে হাঁটছে তদন্ত দল। এ জন্য মজনুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। ঘটনার শিকার ছাত্রীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা আলামত আসামির আলামতের সঙ্গে মেলানো হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি থেকে মেয়েটির ব্যবহূত কাপড় ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছেন। ঘটনাস্থল থেকেও নানা ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য আদালত থেকে অনুমতিও নেওয়া হয়েছে।