ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগের দিন শুক্রবার বিভিন্ন স্থানে কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে মতিঝিলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখীর সমর্থকদের হামলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ভাই মাহমুদসহ কয়েকজন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৈশাখী 'ক্যাসিনো সাঈদ' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অপসারিত কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের স্ত্রী। পুরান ঢাকার চকবাজারের ইসলামবাগে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থক নাজির হোসেন মোল্লাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মতিঝিলের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোজাম্মেল হক দাবি করেন, আরামবাগ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখীর সমর্থকরা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর ব্যাজ পরে তাদের কাউন্সিলর প্রার্থীর জন্য প্রচার চালাচ্ছিল। এ সময় তারা ফারহানাকে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে স্লোগান দেয়। তিনি (মোজাম্মেল হক) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার সমর্থকরা প্রতিপক্ষের মিথ্যাচারে ক্ষুব্ধ হয় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের মধ্যে কাউন্সিলর গলিতে দুর্বৃত্তরা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একটি ককটেল সেখানকার ট্রান্সফরমারে গিয়ে পড়ে। এতে ট্রান্সফরমারটিও বিস্ফোরিত  হয়। এর পরপরই তার ভাই মাহমুদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ঠেকাতে গিয়ে তিনিসহ কয়েকজন আহত হন। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়।

এদিকে সংঘর্ষ-হামলার খবর পেয়ে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার ও মতিঝিল থানার ওসিসহ অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য মতিঝিল থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত খানকে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের সমর্থক নাজির হোসেন মোল্লাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইসলামবাগের হাজী বাবুল রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাজিরের অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বাবুলের ভাগ্নে রুবেলের নেতৃত্বে ৮-১০ জন তার ওপর হামলা চালায়। তাকে প্রথমে মারধর ও পরে মাথায়-পিঠে-কোমরে ছুরিকাঘাত করা হয়।

অবশ্য চকবাজার থানার ওসি মওদুত ইসলাম সমকালকে বলেন, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। ছুরিকাঘাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

অপর ঘটনায় ধানমন্ডির শুক্রাবাদ এলাকায় স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুল ইসলাম রুমীর নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর ও সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রুমীর স্ত্রী সায়মা খানম জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৮৬/১ নম্বর বাসার নিচতলায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়। তারা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও ভোটার তালিকাসহ অন্যান্য কাগজ ছিঁড়ে ফেলে। তাদের মারধরে অন্তত তিন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা আশপাশের লোকজনকে হুমকি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে।

অন্যদিকে পুরান ঢাকার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেন্ডারিয়ার মনিজা রহমান হাইস্কুল ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের জনতাবাগ হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।