ট্রাইব্যুনাল নয়, মাদক মামলার বিচার বিশেষ আদালতে

ঝুলে আছে ১ লাখ ৮০ হাজার মামলা

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ট্রাইব্যুনাল নয়, মাদক-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচার হবে বিশেষ আদালতে। সব জেলা ও মহানগরে এ আদালত গঠন করা হবে। ফলে আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা মাদক মামলার সংখ্যা কমে আসবে। বর্তমানে মাদক-সংক্রান্ত প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার মামলা ঝুলে আছে।

সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ উদ্দেশ্যে 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২০'-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন পাস এবং ১৪ নভেম্বর তা কার্যকর হয়। ওই আইনে ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের কথা রয়েছে।

ওই আইনে সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করার কথা ছিল। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারক নিযুক্ত করার কথা ছিল। তবে যদি কোনো জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ না থাকেন, ওই জেলার দায়রা জজ তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করবেন।

তবে প্রশাসনিক কারণে বিচার ও আইন বিভাগ থেকে আজ পর্যন্ত মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন বা অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজকে তার দায়িত্বের অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব প্রদান করা হয়নি।

ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর হওয়ার পর এ আইনে দায়ের মামলাগুলো বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় এই আইনের আওতায় দ্রুত বিচারকার্য শুরু করার লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালের পরিবর্তে বিশেষ আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত হলো।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হলে এ আইনের অধীন মাদকদ্রব্য অপরাধগুলো অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে বিচার হবে। সংশ্নিষ্ট দায়রা জজ ও মহানগর দায়রা জজ তাদের এখতিয়ারসম্পন্ন এলাকার জন্য কেবল মাদকদ্রব্য অপরাধের বিচারের জন্য এক বা একাধিক আদালত নির্দিষ্ট করতে পারবেন। ফলে মাদক অপরাধের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।