কর ফাঁকিবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না: দুদক চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

বিশেষ প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, যারা কর ফাঁকি দেয়, তারাও দুর্নীতিবাজ। কারণ, জনগণ কর দেন রাষ্ট্রের উন্নয়নে। কর ফাঁকিবাজরা জনগণের সেই কষ্টার্জিত টাকা আত্মসাৎ করে। তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ফাঁকি দেবে, তাদের শান্তিতে ঘুমাতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া করহার কমিয়ে আওতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। রোববার রাজধানীর শান্তিনগরে বিসিএস কর একাডেমিতে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। 

কর ফাঁকিবাজদের শাস্তির বিষয়ে এনবিআরের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কর ফাঁকির মাধ্যমে প্রতিবছর দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হলেও এটি রোধে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছে না এনবিআর। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এনবিআরের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে, একই সঙ্গে আইন কঠোর করতে হবে। তাহলে অর্থ পাচার কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে।

আয়কর আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দুদক ও কর কর্মকর্তাদের জন্য এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে এনবিআর। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

কর আদায়ে সহায়ক নীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আইন যত সহজ হবে, জনগণ কর দিতে তত বেশি উৎসাহী হবেন। খেয়াল রাখতে হবে, কর প্রদানের সময় কেউ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন।

এ দেশে কর-সংস্কৃতি খুবই দুর্বল উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ১৬ কোটি জনগণের এই দেশে নিয়মিত আয়কর দেন মাত্র ২০ লাখ। জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য খুবই লজ্জার বিষয়। তিনি বলেন, না চাইলে কেউ ঘুষ দেয় না। তাই এটাও এক ধরনের ভিক্ষাবৃত্তি। যে কোনো ধরনের ঘুষের বিরুদ্ধে দুদক সোচ্চার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশে কর্মরত অনেক বিদেশি নাগরিকও কর ফাঁকি দিচ্ছে- এ কথা উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে ব্যবসা ও চাকরি করছে। আইন অনুযায়ী সরকারকে তাদের কর দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই ঠিকমতো দিচ্ছে না। কর ফাঁকি দিয়ে দেশ থেকে অর্থ পাচার করছে তারা। কর ফাঁকিবাজ বিদেশি নাগরিকদের ধরার জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করেন তিনি।

আয়কর আদায় বাড়াতে আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাড়ির মালিকদের তথ্য সংগ্রহে ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। কার কয়টা বাড়ি আছে, ফ্ল্যাট আছে, কত ট্যাক্স দেয়, টিআইএন আছে কিনা- এসব তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এদের সব তথ্য নিতে পারলে যোগ্য অনেক বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকদের করের আওতায় আনা যাবে।