খবরের কাগজ পড়া, রেডিও শোনা ও টেলিভিশন দেখার প্রতি নারীদের আগ্রহ কমছে। 

সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদন বলেছে, নারীদের মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের আগ্রহ আছে পত্রিকা, রেডিও ও ম্যাগাজিনের প্রতি। ৬ বছর আগের জরিপে এ হার ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে নারীদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়ছে। ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ নারী যে কোনো বিবৃতি পড়তে পারেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৮২ শতাংশ।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারাদেশের ৬১ হাজার ২৪২ পরিবারে জরিপ চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছে বিবিএস। জরিপে প্রযুক্তি ব্যবহার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য বাস্তবতাও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে নারীদের এ ক্ষেত্রে আরও বলা হয়, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে টেলিভিশনে খবর দেখার প্রবণতা কম। তবে নাটক এবং বিনোদনে আগ্রহ বেড়েছে। রেডিও প্রায় বিলুপ্তির পথে। ছয় বছর আগে ২০১২-১৩ সালের সর্বশেষ জরিপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িতে রেডিও ছিল। এ হার এখন মাত্র শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। তবে টেলিভিশনের সংখ্যা বেড়েছে। আগের জরিপে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন ছিল। এখন এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৬ শতাংশে। নারীদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বেড়েছে। এখন ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ নারী মোবাইল ফোনের মালিক। যদিও ইন্টারনেট ব্যবহার করে মাত্র ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিবিএস এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) যৌথভাবে 'মাল্টিপল ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০১৯' নামে এই জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সোমবার। 

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিবিএস সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থার অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম ও ইউনিসেফের অফিসার ইনচার্জ অ্যালেন বালান্ডি ডমসন। সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম। জরিপ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিবিএস পরিচালক পরিচালক মাসুদ আলম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত। স্কুলে যাওয়া শিশুদের তুলনায় এ হার বেশি। এখনও বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটছে। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ কিশোরী বিবাহিত। ২০-২৪ বছর বয়সী ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ নারীর বয়স ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, প্রায় সব পরিবারেই খাবার পানির উৎসের উন্নতি হয়েছে। ৯৫ দশমিক ৫ শতাংশ খাবার পানি সংগ্রহের উৎসের উন্নতি হয়েছে। দেশে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারের উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে। সচেতনতা বাড়লেও এখনও হাত ধোয়ার অভ্যাস কমই রয়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ৯২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। কমেছে শিশুদের অপুষ্টি। তবে বেড়েছে শিশুদের প্রতি সহিংস শাসন। ১-১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশই তাদের লালন-পালনকারীদের কাছে সহিংস আচরণের শিকার হয়। শিশুশিক্ষার বিষয়ে বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৯ ভাগ। আগের জরিপে এ হার ছিল ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। যদিও এখনও ১৩ শতাংশ কিশোর -কিশোরী নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। শিক্ষা সমাপ্ত না করে ঝরে পড়ার হারে প্রতি ৫ জনের একজনই ছেলে।

বিষয় : বিবিএসের জরিপ নারীদের আগ্রহ কমেছে খবরের কাগজ

মন্তব্য করুন