পি কে হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব-সম্পদ-পাসপোর্ট জব্দই থাকছে

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) অর্থ পাচারের ঘটনায় এর সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও পাসপোর্ট জব্দে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী তানজীব-উল আলম। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দুই পরিচালকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম।

গত ১২ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে ২১ জানুয়ারি পি কে হালদারসহ কোম্পানির শীর্ষ ২০ কর্মকর্তার পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ২০ জনের নগদ অর্থ, গাড়ি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর না করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই আদেশে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পি কে হালদারকে অপসারণ করে কোম্পানি পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকেও নিয়োগ দেন হাইকোর্ট। 

পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে আইএলএফএসএলের দুই পরিচালক, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের নির্দেশে উপস্থিত হয়ে কোম্পানির সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন ইব্রাহিম খালেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. শাহ আলম। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার পি কে হালদারসহ ২০ জনের পাসপোর্ট ও ব্যাংক হিসাব জব্দসহ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে বহাল রাখা হয়।

পি কে হালদার ছাড়া অন্য ১৯ জন হলেন- কোম্পানির চেয়ারম্যান এম এ হাসেম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, মোমতাজ বেগম, নওশেরুল ইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, আবুল হাসেম, মো. রাশেদুল হক, পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, ভাই প্রিতুষ কুমার হালদার, চাচাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদ, পি কে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী।

আদেশের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী তানজীব-উল আলম সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেওয়ার পর এ পর্যন্ত তিনি দুটি সভা করেছেন। এখন তার পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংক কী করবে। তিনি আরও বলেন, আইএলএফএসএল দেউলিয়া হোক, তা বাংলাদেশ ব্যাংক চায় না। প্রতিষ্ঠানটি যাতে দেউলিয়া না হয়, সে জন্য পরিচালকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পাচার হওয়া টাকা বিদেশ থেকে ফেরত আনার বিষয়ে তানজীব-উল আলম বলেন, ওই টাকা ফেরত আনার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক বা ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নয়। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। দুদক আছে। অর্থ পাচার আইনের বিষয়ে কয়েকটা প্রতিষ্ঠানও আছে। ওই সব প্রতিষ্ঠান পি কে হালদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার উদাহরণ দিয়ে ব্যারিস্টার তানজীব আরও বলেন, এর আগে সিঙ্গাপুর থেকে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা টাকা দেশে ফেরত আনা হয়েছে। পি কে হালদারের টাকা যেহেতু কানাডায় আছে, একই পদ্ধতিতে চুক্তির আওতায় পি কে হালদারের পাচার হওয়া টাকাও আনা সম্ভব। এর জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিরাট ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সেন্ট্রাল অথরিটি হিসেবে ছিল, এখন নেই। এখন কিছু করতে হলে এ ধরনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠাতে হবে।