মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর মূর‌্যাল বা ছবি সম্বলিত বড় ব্যানার তৈরি না করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কোনো মন্ত্রণালয় থেকে ম্যুরাল ও ব্যানার তৈরি করতে হলে অনেক অর্থ ব্যয় হবে। এসব অর্থ একাজে ব্যয় না করে সেই অর্থ দুঃস্থ অসহায়দের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দিলে তাতেই জনকল্যাণ হবে। অতিরঞ্জিত কোনো কিছু করার প্রয়োজন নেই। অতি উৎসাহী হয়ে বড় বাজেটের নতুন কোনো কর্মসূচি না নেয়ার জন্য সংশ্নিষ্ট সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওস্থ তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় সচিবদের এমন নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়াও মন্ত্রিসভায় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০'-এর খসড়া 'জাতীয় কৃষি সল্ফপ্রসারণ নীতি ২০২০'এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিং করেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে আগামী এক বছরকে মুজিব শতবর্ষ হিসেবে পালন করবে সরকার।

মুজিব শতবর্ষের কর্মসূচি মন্ত্রিসভায় আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, 'প্রধান মন্ত্রী বলেছেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তার সাধারণ বাজেট থেকে একটা অনুষ্ঠানকে মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করবে। যদি ভিন্ন কোনো বিষয় থাকে তাহলে অতিরিক্ত টাকার চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু বড় বড় বাজেট দিয়ে নতুন কাজ করার প্রয়োজন নেই।'

মন্ত্রিপরিষ সচিব বলেন, 'উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- অর্থ বিভাগ মুজিব শতবর্ষ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসূচি নিয়েছিল- ডিসেম্বরের মধ্যে ছয় লাখ পেনশনারের বাড়িতে বসে পেনশন দেবে। এ কর্মসূচিটা তারা মুজিব শতবর্ষের কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ রকম ভালো কোনো কর্মসূচিকে মুজিব শতবর্ষের কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা যাবে।'

তিনি আরও বলেন, 'সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নতুন নতুন কিছু কর্মসূচি নেওয়ার দরকার নেই। যে কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে- তা যেন মানুষের কল্যাণে বা দেশের উন্নয়নে আবদান রাখতে পারে। তাহলে সেটিই মুজিব শতবর্ষের জন্য সার্থক হবে। সব কর্মসূচি কিভাবে কার্যকর করা যায় সেটিই করতে হবে। নতুন কোনো কর্মসূচি নেওয়া দরকার নেই।'

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে করা জাতীয় কমটির কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি বাজেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা লাগছে। মূলত খরচ সমন্বয় করতেই বাজেট কমিটি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দলীয় ব্যানারে কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে নির্দেশ দেওয়া আছে জাতীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এ দলীয় কর্মসূচি পালন করতে হবে।