করোনভাইরাস ও মুজিব শতবর্ষ সম্পর্কে অপ্রাসঙ্গিক কথা না বলার জন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে দেশবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। করোনা মোকাবিলায় সরকারের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিনিয়ত কথা বলছেন। এর বাইরে জনগণ আতঙ্কিত হয় এমন কথা থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এমনকি এমপিদের বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে জনসমাগম এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তেজগাঁওস্থ তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাসের কারণে মুজিব শতবর্ষের জনসমাবেশ স্থগিত নিয়ে আলোচনা হয়। কেউ কেউ এ বিষয়ে ভিন্নভাবে বলার চেষ্টা করলে প্রধানমন্ত্রী তাদের থামিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে মুজিব শতবর্ষের জনসমাবেশের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সে সম্পর্কে সংশ্নিষ্ট কমিটি বিস্তারিত জানিয়েছে। আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিরা কেন আসতে পারছেন না সে সম্পর্কেও বলেছেন। সুতরাং এর বাইরে ভিন্নভাবে কথা না বলার জন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগ সব প্রস্তুতি শুরু করেছে। যেহেতু এটি ছেঁয়াচে রোগ। ইতোমধ্যে তিন স্তরের কর্মকৌশল নেওয়া হয়েছে।'

সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশবাসী যেন আতঙ্কিত না হন। কারণ এটি একটা ভাইরাস। ছোঁয়াচে হওয়ায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিশ্বস্বাস্থ্য প্রটোকল অনুযায়ী সব ব্যবস্থা, কোয়ারেন্টাইন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের জনসমামাবেশ থেকে এড়িয়ে চলতে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

অপর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনের সংস্পর্শে আসায় ৪০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ ভাইরাসের প্রকৃতিটা একটু জানা দরকার। ভাইরাস যদি থাকে তবে সঙ্গে সঙ্গে জ্বর আসবে না, ধরা পড়বে না বা উপসর্গ দেখা দেবে না। ১৪ দিন পর্যন্ত এটা উপসর্গ দেখা নাও দিতে পারে। যখন উনি দেশে এসেছেন কোনো উপসর্গ ছিল না।

সচিব বলেন, 'স্ক্যানিংয়ে তার জ্বর ধরা পড়বে না, এমনকি যদি ব্ল্যাড টেস্টও করা হয় রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে। তাই যে কেউ চলে আসতে পারবে। বিদেশ ফেরত যাত্রীদের একটিফরম দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে সে কোথায় থাকবে কীভাবে থাকবে, সেটা লেখা থাকবে। যদি কোনো উপসর্গ দেখা দেয় সে যোগাযোগ করবে। এর ভিত্তিতে মোবাইল ট্র্যাকিং করা করা হয়, কোন দেশ থেকে আসল, কোথায় আছে। তারাও হটলাইনে যোগাযোগ করে বলেন, তার জ্বর আসছে, কাশি হচ্ছে।

তিনি বলেন, '১০০ জনের মতো লোককে টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আসা দুজনের শরীরে ধরা পড়েছে। তাদের কন্ট্রাক্ট ট্র্যাকিং করে কোথায় গেছে, কাদের সঙ্গে মিশেছে-সবকিছু করা হচ্ছে। প্রথমজনের জন্য ৪০ জনকে ট্র্যাক করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেছি। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এ আশঙ্কা রোধ করার জন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।'

আক্রান্ত দেশগুলো থেকে মানুষ আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ' সেই সব বিষয়ে প্রথম থেকেই অ্যাডভাইস করা হয়েছিল। যেখানে বেশি প্রাদুর্ভাব হয়েছে সেখান থেকে যেন কম লোক আসে। এমনকি বাংলাদেশের নাগরিক যারা ওইসব দেশে আছেন, তারাও যাতে যাতায়াত সীমিত করে দেয়, সে বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছিলাম।'

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত সেই সব দেশের অনঅ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া পরামর্শে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন করছে।