কুড়িগ্রামে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে নির্যাতনকারী জেলা প্রশাসনের আরডিসি (জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আরও ‘কঠিন ব্যবস্থা’ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন।

তিনি বলেন, ‘এখন তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটি খুবই কঠিন। তার এবং তার চাকরি, পরিবার ও সামাজিক অবস্থার জন্য বেদনাদায়ক ও অপমানকর হবে’।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জনপ্রশাসন সচিব বলেন- চাকরিতে যোগ দেয়ার আগেই একজন ভাল কর্মকর্তা যাতে ভদ্রলোকের মতো আচরণ করে সে বিষয়ে নানা ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। তারপরেও সিভিল সার্ভিস যেহেতু একটি বড় সংগঠন তাই এখানে অনেক মানুষ আসে। সেখানে কিছু কিছু কর্মকর্তা, কিছু কিছু লোক খারাপ থাকতেই পারে। সব লোক যে ভাল সেটি আমরা মনে করি না।

তিনি বলেন, যদি কোন কর্মকর্তার ব্যবহার যদি এমন হয় যেটি অকর্মকর্তাসুলভ বা ভদ্রলোকের মতো আচরণ নয়, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। আর আচরণ ফৌজদারি অপরাধমূলক হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়। একই সাথে বিভাগীয় মামলাও হতে পারে। তবে এর পরও আচরণে সংশোধন না আসলে এবং একই ধরণের আচরণ বার বার করলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে নাজিম উদ্দিন ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় এসিল্যান্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মহম্মদপুরে থাকাকালে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে খারাপ আচরণ, মারধর, বাড়িঘর-ভাংচুরসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিকে খাস দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চলছে বিভাগীয় মামলা। উপজেলায় এসিল্যান্ড থাকাকালে তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন মহম্মদপুরের 'নিজাম (নৃপতি বা শাসক)'।