বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আদালতের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হবে কি-না, তা বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, 'করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সচেতন। আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব, এ নিয়ে কী করা যায়। আপাতত কোর্ট বন্ধ আছে। কোর্ট খোলার আগেই আমরা সবাই একবার বসব। বিচারপ্রার্থী জনগণ যারা আছেন, তাদের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবকিছু খেয়াল রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। কোর্ট খোলার আগেই সিদ্ধান্ত নেব। তখন এটা আপনাদের জানানো হবে।'

নিম্ন আদালত বন্ধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'নিম্ন আদালতও তো সুপ্রিম কোর্টের অধীনে। সুতরাং আমরা সব ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নেব। কারণ লাখ লাখ বিচারপ্রার্থী মানুষের কথাও আমাদের মনে রাখতে হবে। কোর্ট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলে মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যেতে পারে। অনেকে জরুরি বিষয়াদি নিয়ে আদালতে আসেন। সুতরাং এগুলো নিয়ে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নেব, সবাই বসে একসঙ্গে।'

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন হবে নিম্ন আদালত, সুপ্রিম কোর্টসহ সব আদালতে। এটা বছরব্যাপী হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী হবে।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে 'কুরচি' নামে একটি বৃক্ষ রোপন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী 'কাঞ্চন', বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী 'বকুল', বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার 'পলাশ', বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী 'শিমুল' এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান 'শিমুল' বৃক্ষ রোপন করেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে অবকাশকালীন ছুটি চলছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এই ছুুটি শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৮ মার্চ পর্যন্ত। অবশ্য জরুরি মামলা নিষ্পত্তির জন্য সীমিত পরিসরে হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চ ও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে বিচারকাজ অব্যাহত রয়েছে। এ জন্য প্রধান বিচারপতি কার্যদিবস অনুসারে বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে কয়েকটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করে দিয়েছেন।