যশোরে তিন বৃদ্ধকে লাঞ্ছনা, রাবি শিক্ষকের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২০   

রাবি প্রতিনিধি

যশোরে তিন বৃদ্ধকে লাঞ্ছনার ঘটনায় নিজেই নিজের কান ধরে ওঠবস করছেন রাবি শিক্ষক ড. ফরিদ উদ্দীন খান- সমকাল

যশোরে তিন বৃদ্ধকে লাঞ্ছনার ঘটনায় নিজেই নিজের কান ধরে ওঠবস করছেন রাবি শিক্ষক ড. ফরিদ উদ্দীন খান- সমকাল

যশোরের মনিরামপুরে তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করানো ও এসিল্যান্ডের ছবি তোলার ঘটনার ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান। 

শনিবার সকালে তিনি নিজে কান ধরে একটি ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তার এ পোস্টের নিচে মন্তব্য করে অনেকে তাকে সমর্থন জানান এবং এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসানের সমালোচনা করেন।

ড. ফরিদ উদ্দীনের পোস্ট দেখে রাবি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় ফেসবুক গ্রুপ 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন লেখেন 'শুধু লেখাপড়া করলেই মানুষ হওয়া যায় না।'

তার পোস্টে আরিফুর রহমান নয়ন নামে একজন মন্তব্য করেন, 'আমরা বড় ডিগ্রিধারী অবিবেচক, আমরা দুঃখিত।' মো. এজাবুল নামে একজন মন্তব্য করেন, 'কান ধরে  ওঠবস করানো সম্পূর্ণ বেআইনি, অসাংবিধানিক, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থি।' মীর আশরাফুল লেখেন, 'এ লজ্জা তোমার নয়, এ লজ্জা আমাদের।'

জানতে চাইলে ফরিদ উদ্দীন খান সমকালকে বলেন, 'করোনাভাইরাস নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। মানুষকে সচেতন করতে সরকার নানা কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ড আমাকে মর্মাহত করেছে। সাধারণ মানুষ জীবিকা বা প্রয়োজনে বাইরে বের হয়েছে। তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে, না হলে আইনের দ্বারা শাস্তি দিয়ে বাড়ি পাঠানো যেত। কিন্তু একজন ম্যাজিস্ট্রেট এতটা অমানবিক হতে পারেন না; মারধর করা, কান ধরে উঠবস করানো এবং সেসব ছবি তুলে কারও সম্মানহানি ঘটাতে পারেন না।' করোনা সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মানুষকে মারধর ও কান ধরানো বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান গত শুক্রবার বিকেলে মনিরামপুরে মাস্ক না পরায় তিন বৃদ্ধকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন এবং তাদের ছবি তোলেন।