পুলিশের সামনেই মহাসড়কে চলছে প্রাইভেট কার-লেগুনা

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২০   

শাহেদ চৌধুরী, নরসিংদী থেকে ফিরে

রাজধানীর চেহারা এখন এমনই থমথমে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ছবি   -সাজ্জাদ নয়ন

রাজধানীর চেহারা এখন এমনই থমথমে। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ছবি -সাজ্জাদ নয়ন

নরসিংদী শহর শুরুর প্রান্ত ভেলানগর থেকে রাজধানীর ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। স্বাভাবিক সময়ে যানজট ঠেলে বাসে আসতে সময় লাগে দু'ঘণ্টারও বেশি। এখন সেই চিরচেনা চিত্র একেবারেই বদলে গেছে। শনিবার গুনে গুনে ৩৫ মিনিটে ঢাকায় এসে মনে হলো, বাতাসে ভেসে এলাম। কিংবা বিমানে।

বিস্তীর্ণ এই সড়ক পথ দিয়ে আসার সময় কোনো ধরণের ঝক্কি-ঝামেলা সইতে হয়নি। বেশ নির্বিঘ্নেই গাড়ি এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের কেউ গাড়ির গতিরোধ করেনি। মাঝে মধ্যে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে তাদের নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পুলিশের সামনে দিয়েই প্রাইভেট কার ও লেগুনা চলাচল করেছে। অবশ্য সংখ্যায় তা খুবই কম।

শনিবার বিকেলে আমরা তিনজন নরসিংদী থেকে ঢাকায় আসছিলাম। আমার অন্য দুই সঙ্গীর একজন সমকালের পলাশ প্রতিনিধি আসাদুল্লাহ মনা। অন্যজন মানবজমিনের পলাশ প্রতিনিধি সারোয়ার রুবেল। গাড়ি চালক জানালেন, গণছুটি চললেও তার মতো অনেকেই বেশ নিশ্চিন্তে ভাড়ায় গাড়ি চালাচ্ছেন। যাত্রীও পাচ্ছেন নিয়মিত।

এখন প্রশ্ন হলো, কিভাবে ঢাকায় এলাম আমরা? দেশে এখন গণছুটি চলছে। সড়ক, নৌ, ট্রেন এবং বিমান পথে যোগাযোগ বন্ধ। সুতরাং ঢাকায় আসাও অসম্ভব। কিন্তু সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে আমাকে ঢাকায় তো আসতেই হবে। মা, স্ত্রী এবং দুই সন্তানের অসুস্থতার কারণে গত ২০ মার্চ থেকে নরসিংদীতে আটকে আছি।

ঢাকায় আসার জন্য একটি গাড়ি ভাড়ার অনুরোধ জানালাম আসাদুল্লাহ মনাকে। তিনি গাড়ির ব্যবস্থা করলেন। আর ফেরার পথে পুলিশের সম্ভাব্য তল্লাশি ও জিঞ্জাসাবাদের ঝামেলা মোকাবিলার জন্য আমার সঙ্গী হলেন আসাদুল্লাহ মনা ও সারোয়ার রুবেল। আমাকে ঢাকায় নামিয়ে নরসিংদী ফেরার পর আসাদুল্লাহ মনা জানিয়েছেন, কোনো তল্লাশি হয়নি। প্রাইভেট কার ও লেগুনা চলছে। প্রতিটি লেগুনায় গাদাগাদি করে মানুষজন বসেছে।

ঢাকায় আসার পথে শাহেপ্রতাপ, পাঁচদোনা, মাধবদী ও ভোলতার মোড়ে মোড়ে অনেককেই পরস্পরের সঙ্গে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা লেগুনায় করে নিজেদের গন্তব্যে যাবেন। এমন চিত্র দেখা গেছে আরও কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে। আশপাশের মাঠে কোনো কৃষক-কিষানী চোখে না পড়লেও সড়কের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের জটলা চোখে পড়েছে। অর্থাৎ তারা প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ মানছেন না।

কম-বেশি সবাই মুখে মাস্ক পরে থাকলেও একে অন্যের সঙ্গে নির্বিঘ্নে হাত মেলাচ্ছেন। কোলাকুলি করছেন। বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া বাজারগুলোতে ঘোরাফেরা করছেন। অসুধ ও খাবারের দোকানপাটে বসে গল্প-গুজব আর আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। বাজারগুলোতে অবশ্য বেশিরভাগ দোকানপাটই বন্ধ। কিন্তু রাস্তার দু'পাশে ভ্যানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে ক্রেতার জন্য ক্ষুদ্র দোকানীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

এ সব দেখতে দেখতে তিনশ' ফুট এলাকা পেরিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে বেশ অবাক হলাম। কোথাও কোনো যানবাহন নেই। যানজট নেই। দোকানপাট বন্ধ। এক সময়কার ব্যস্ত ফুটপাত ফাঁকা। মানুষজনও চোখে পড়েনি খুব একটা। চারদিকে সুনশান নীরবতা। সমকালের অফিসে প্রবেশের সময় সাত রাস্তায় সেনা সদস্যদের টহলরত গাড়ি চোখে পড়লো। এ সব দেখে মনে হলো, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রাজধানীর নাগরিকরা সব ধরনের বিধিনিষেধ মানছেন।