আসুন আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হই: ডা. মাহবুবুর রহমান

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২০     আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান

অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান করোনাভাইরাসের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, 'আসুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলি, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হই।'   

হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক মো. মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, 'আমরা সবাই জানি করোনাভাইরাস অর্থাৎ কোভিড-১৯ এখন সারাবিশ্বে হুমকি স্বরূপ। সারা বিশ্বের মানুষের এখন কমন শত্রু হলো করোনাভাইরাস। আমাদের দেশ শুধু নয়, উন্নত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা পর্যন্ত এই করোনাভাইরাসের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।'

এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।

 অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'আপনাদের বুঝতে হবে, আমি একজন চিকিৎসক, একজন কার্ডিওলজির অধ্যাপক হয়ে বলছি, এই করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ সম্পর্কে আমারা বইয়ে পড়ে আসিনি। বিশ্বের কোন ডাক্তার এই করোনাভাইরাস সম্পর্কে পড়াশোনা করে আসেননি। আজকে যারা রিসার্চ করছেন, আজকে যারা ডাক্তার, আজকে যারা করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন তারা করোনাভাইরাস চিনছেন। মাত্র কয়েকমাস হলো এটি আবির্ভূত হয়েছে। এরকম রোগ আর কখনো সারাবিশ্বে আসেনি। আমরা ডাক্তাররা পড়াশোনা করিনি। আমাদের নতুন করে পড়তে হচ্ছে। রিসার্চ হচ্ছে। আমরা সবাই এই করোনাভাইরাস নিয়ে কাজ করছি।' 

অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, 'করোনাভাইরাস নিয়ে আর যাই হোক সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর কিছু বলবেন না। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই চেষ্টা করে যাচ্ছেন এবং বিশ্বে যা কিছু রিসার্চ হচ্ছে তার রেজাল্ট জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতালিতে একদিনে ৭৯২ জন মারা গেছেন। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে আল্লাহর রহমতে করোনাভাইরাসের বিস্তার ওই পর্যায়ে যায়নি। আমি বলছি না, যাবে না। তবে কেন যাবে না, কিভাবে যাবে না, এটা সরকার কোনভাবে আমাদের ঠিক করে দিতে পারবে না, যদি না আমরা সচেতন হই।'

কোয়ারেন্টাইন কি 

ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'এই সময় নিজেকে আলাদা রাখুন। করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করুন অথবা আপনি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন কিংবা মনে করা হয় আপনার মধ্যে করোনাভাইরাস রয়েছে, তাহলে আপনি নিজেকে আলাদা করে ফেলুন। এটাকে আইসোলেশন বলে। কিংবা সেলফ কোয়ারেন্টাইন বলে। আপনি আলাদা হবেন, কমিউনিটির জন্য, আপনি আলাদা হবেন আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য। করোনাভাইরাসে যদি আমরা আক্রান্ত হই, আমরা ভয় না পেয়ে আরও সচেতন হবো।' 

শিশুদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, 'বাচ্চারা, তোমাদের বাবা-মা, দাদা-দাদী, বয়স্কদের নিরাপত্তার জন্য তোমরা ঘরে থাকো। কখনো তোমরা বাসা থেকে নিচে নামবে না। সরকার যতদিন না তোমাদের বলে এবং যারা চাকরিজীবী বিশেষ করে যারা হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য চাকরি করছেন আপানারা বাসায় ফিরেই যদি সম্ভব হয় বাসার গ্যারেজ থেকে হাতটা ভালো করে সাবান দিয়ে, বেশি করে ক্ষার জাতীয় সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে বাসায় ওঠেন। আপনাদের জন্য ওটাই মঙ্গল। এরপর বাসায় ঢুকেই পরিধেয় কাপড় সাবান দিয়ে ধুয়ে, গোসল করে একবারে বের হয়ে আসবেন। এটা আপনার পরিবারের জন্য মঙ্গল। হাঁচি-কাশি দেওয়ার পর টিস্যু জায়গামতো ফেলতে হবে। যদি রুমাল ব্যবহার করেন এবং রুমালে যদি হাঁচি দেন, তাহলে নিজ দায়িত্বে সাবান দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলবেন। ওই রুমাল আবার পকেটে ঢুকাবেন না। কিংবা কাজের লোককে দিয়ে ধোয়ানোর জন্য বালতিতে রাখবেন না। কারণ ওইখানে আরও কাপড়-চোপড় থাকলে ভাইরাসটি আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।' 

গবেষণার ফল জানিয়ে তিনি বলেন, 'সাড়ে তিন হাত দূরে থাকলে করোনাভাইরাস আক্রমন করতে পারে না। আপনি যারই সঙ্গে কথা বলুন না কেন, চেষ্টা করবেন এই দূরত্ব রক্ষা করার।'