আক্রান্ত ১০০ ছাড়াল

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবংশী রায়

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ক্রমেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। গতকাল সোমবারের হিসাব অনুযায়ী, ভাইরাসটি দেশের ১৫ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাইবান্ধার একই এলাকায় কম দূরত্বে একাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্য এই চার জেলাকে সংক্রমণের 'ক্লাস্টার' বলা হচ্ছে। এ চিত্র থেকে দেখা যায়, ভাইরাসটি ক্রমেই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। গতকাল সোমবার নতুন করে আরও ৩৫ জন আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা একশ' ছাড়াল। মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জন এবং মৃতের সংখ্যা ১২ জনে পৌঁছাল।
কোন জেলায় কত আক্রান্ত :করোনা আক্রান্ত ১২৩ জনের মধ্যে ১২১ জনের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পেরেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে ৬৪ জনই রাজধানীর ঢাকার বাসিন্দা। ঢাকার পর অন্য জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এই জেলায় ২৩ জন আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এরপর মাদারীপুরে ১১ জন, গাইবান্ধায় পাঁচজন, জামালপুরে তিনজন, চট্টগ্রামে দু'জন, কুমিল্লা, গাজীপুর, চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, নরসিংদী, মৌলভীবাজার, সিলেট ও রংপুরে একজন করে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বাইরে চার উপজেলায় চারজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশের ১৫ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।
করোনার বিস্তৃতিতে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও শুরুতে দু-একজনের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে। পরে ধাপে ধাপে বিস্তৃতি ঘটিয়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশও সেদিকে এগোচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক সমকালকে বলেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রথমে দু-একজনের মাধ্যমে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে বিস্তৃতি ঘটিয়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে।
ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরে ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, এই দেশগুলোতে ভাইরাসটির বিস্তারের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর এক মাসে সাত থেকে ১০ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী মাসে সেটি হুহু করে বেড়ে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সে হিসাবে বাংলাদেশে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর এক মাসের আগেই সেটি একশ' অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া আমাদের মৃত্যুহারও কিন্তু ইতালির কাছাকাছি। সুতরাং এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, করোনা নিয়ে কথা বলতে বলতে ক্লান্তি ধরে গেছে। শুধু কথা বলেই যাচ্ছি। কিন্তু সংশ্নিষ্টরা তো সেদিকে কোনো কান দিচ্ছে বলে মনে হয় না। তাহলে কথা বলার প্রয়োজন কী? অত্যন্ত দুঃখজনক যে, স্বাস্থ্য বিভাগের কাজে কোনো সমন্বয় নেই। শুরু থেকেই তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, এটি এখন বলা যায়। বর্তমানে ১৫ জেলায় সংক্রমণ পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিধি সর্বত্র থাকলে হয়তো সত্যিকার চিত্র পাওয়া যেত। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা সীমিত থাকায় সেটিও তো জানা যাচ্ছে না। আবার আক্রান্তের সংখ্যা হাজার হাজার হলে সেক্ষেত্রে তাদের হাসপাতালে রেখে কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে, সেই ব্যবস্থাপনাও তো দেখা যাচ্ছে না। হাতেগোনা যেসব হাসপাতালের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোতে কি পর্যাপ্ত আইসিইউ, ভেন্টিলেটর সাপোর্ট আছে? নিশ্চয়ই নেই। তাহলে কিসের প্রস্তুতি নেওয়া হলো? বর্তমানে প্রতিটি জেলায় অন্তত ৫০ থেকে ১০০ শয্যার আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সাপোর্ট সুবিধা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশে প্রায় এক হাজার ২০০ আইসিইউ শয্যা আছে। আবার সেগুলোর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অচল হয়ে পড়ে আছে। এমনকি সবগুলোতে ভেন্টিলেটর সুবিধাও নেই।
আক্রান্ত ও মৃতের পরিসংখ্যান :প্রথম করোনার সংক্রমণ, আক্রান্ত ৩ জন :দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। ওই দিন তিনজন সংক্রমিত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।
আক্রান্ত বেড়ে ৫ জন :১৪ মার্চ রাতে আরও দুইজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।
আক্রান্ত বেড়ে ৮ জন :১৬ মার্চ আরও ৩ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়।
আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০ জন :১৭ মার্চ আরও দুইজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়।
প্রথম মৃত্যু ও আক্রান্ত বেড়ে ১৪ জন :১৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমিত প্রথম এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ৭০ বছরের বেশি বয়সী ওই ব্যক্তি বিদেশফেরত একজনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন। একই দিন নতুন করে আরও ৪ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
আক্রান্ত বেড়ে ১৭ জন :১৯ মার্চ নতুন করে আরও ৩ জন আক্রান্ত হন।
আক্রান্ত বেড়ে ২০ জন :২০ মার্চ আরও ৩ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
মৃত্যু বেড়ে ২, আক্রান্ত বেড়ে ২৪ জন :২১ মার্চ করোনাভাইরাসে দেশে দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ৭০ বছরের বেশি বয়সী ওই ব্যক্তি বিদেশফেরত এক স্বজনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন। নতুন করে আরও চারজন আক্রান্ত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
আক্রান্ত বেড়ে ২৭ জন :২২ মার্চ আরও ৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। প্রথম আক্রান্ত তিনজনের সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আরও দুইজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
মৃত্যু বেড়ে ৩, আক্রান্ত বেড়ে ৩৩ :২৩ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৩ জনে পৌঁছায়। ওই দিন নতুন করে আরও ৬ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩-এ পৌঁছায়। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও দুইজন নার্স।
মৃত্যু বেড়ে ৪, আক্রান্ত বেড়ে ৩৯ :২৪ মার্চ আরও একজনের মৃত্যু হয়। ওই দিন মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪-এ পৌঁছায়। একই সঙ্গে ওই দিন নতুন করে আরও ৬ জনের করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯-এ পৌঁছায়।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ জন :২৫ মার্চ প্রাণঘাতী করোনায় আরও একজনের মৃত্যুর খবর জানায় আইইডিসিআর। এ নিয়ে ওই দিন মৃতের সংখ্যা ৫-এ পৌঁছায়। তবে ওই দিন নতুন করে কারও শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। ওই দিন পর্যন্ত আক্রান্ত ৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
আক্রান্ত বেড়ে ৪৪ জন :২৬ মার্চ নতুন করে আরও ৫ জন আক্রান্ত হন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪-এ পৌঁছায়। ওই দিন পর্যন্ত মোট ১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
আক্রান্ত বেড়ে ৪৮ জন :২৭ মার্চ নতুন করে দুই চিকিৎসকসহ ৪ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে দুইজন চিকিৎসক।
আক্রান্ত বেড়ে ৪৯ :২৮ ও ২৯ মার্চ পরপর দুই দিন দেশে করোনায় কোনো আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ২৮ মার্চ আরও ৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ওই দিন পর্যন্ত ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। টানা দুই দিন পর ৩০ মার্চ নতুন করে একজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। ওই দিন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ১৯ জন।
আক্রান্ত বেড়ে ৫১ জন :৩১ মার্চ আরও ২ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়ে ৫৪ জন ও ৬ জন :১ এপ্রিল নতুন করে আরও ৩ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। ওই দিন আরও ১ জনের মৃত্যু হয়।
আক্রান্ত বেড়ে ৫৬ জন :২ এপ্রিল আরও ২ জনের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া যায়।
আক্রান্ত বেড়ে ৬১ জন :৩ এপ্রিল আরও ৫ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়।
আক্রান্ত বেড়ে ৭০, মৃতের সংখ্যা ৮ জন :৪ এপ্রিল আরও ৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। ওই দিন আরও ২ জনের মৃত্যু হয়।
আক্রান্ত বেড়ে ৮৮ জন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ :৫ এপ্রিল ১৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। ওই দিন আরও একজনের মৃত্যু হয়।
আক্রান্ত বেড়ে ১২৩, মৃত্যু বেড়ে ১২ জন :সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল আরও ৩৫ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। গতকাল আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান।
মহাপরিচালক বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আর এক স্থানে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বেড়েই চলেছে। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তিন হাজার ৬১০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন এবং ৩০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ২৩ জনকে।
ডা. আজাদ বলেন, দেশের ১৫ জেলায় সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাইবান্ধায় একাধিক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সুতরাং এটিকে ক্লাস্টার (সংক্রমিত এলাকা) বলা যাবে।
গতকাল সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ২৯ জন আক্রান্ত এবং চারজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে এ তথ্যে গরমিল পাওয়া যায়। তথ্যগত গরমিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, একটি বৈঠক চলার সময় তিনি ফোন করেছিলেন। আইইডিসিআর তাকে তথ্য দিয়েছিল। সেখানে একই নাম দু'বার লেখা হয়েছিল। সে কারণেই এ সমস্যা হয়েছে। এখন যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, সেটিই সঠিক।
এর আগে ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জনই নারায়ণগঞ্জের। মৃত তিনজনের একজন এক সপ্তাহ আগে শনাক্ত হন। বাকি দু'জন হাসপাতালে আসার পরপরই মারা গেছেন। তারা দু'জনই নারায়ণগঞ্জের। এই জেলাকে ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সেখানে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সেখান থেকে ভাইরাসটি অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে না পারে। একইভাবে ঢাকা, মাদারীপুর ও গাইবান্ধায়ও এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
লকডাউনের পরামর্শ :রাজধানীর বিসিপিএস মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বর্তমান করোনা পরিস্থিতি প্রতিরোধে পুরো দেশ লকডাউনের পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যথায় ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
ছুটি ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের গ্রামে ছুটে যাওয়া, বিভিন্ন শিল্পকারখানা চালুর ঘোষণার পর শ্রমিকদের ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ফিরে আসা, আবার ওই দিনই বন্ধ ঘোষণার পর তাদের ফেরত যাওয়া করোনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে মনে করেন তারা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিধি না বাড়ালে এ ভাইরাস ঠিক কোন পর্যায়ে ছড়িয়েছে, সেটি বলা যাবে না। চিকিৎসক নেতারা বলেন, রোগীরা চেম্বারে অথবা বহির্বিভাগে এলে সেবাদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি আক্রান্ত হবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য রোগীও আক্রান্ত হবেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা একের পর এক আক্রান্ত হলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সুতরাং এ অবস্থায় জরুরি বিভাগের সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফোনে চিকিৎসা সহায়তার পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা। এ সময় তারা জরুরি পরিস্থিতিতে সেবাদানকারী চিকিৎসকদের প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশও করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : করোনা