করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও মানবিক সংকটের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন শঙ্কার কথা তুলে ধরে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের ওয়েবসাইটে নিবন্ধ লিখেছেন ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। 

করোনায় লকডাউনের কারণে ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট একেবারেই ফাকা। যখন এক কোটি রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, কারখানা শ্রমিক আর গৃহকর্মী যখন সরকারের ২৬ মার্চ ঘোষিত শাটডাউনে ঘরে আশ্রয় নিয়েছে, তখন থেকেই শহরটি অস্বাভাবিকভাবে নিরব হয়ে আছে।

নিবন্ধে এমন চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ঢাকা মূলত মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের শব্দে আচ্ছাদিত বাড়ন্ত অর্থনীতির শহর। তারা এখন কোথায়? তারা কি খাচ্ছে? রাজশাহীর সুমির মতো একজন রিক্সাওয়ালা, যার উপার্জনের ভরসায় বাঁচে পরিবারের পাঁচটি মুখ, সেই সুমির চলবে কিভাবে?  

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,  বাংলাদেশের মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ দৈনিক ৫০০ টাকার বেশি উপার্জন করে। বাকি ৮৫ ভাগ মানুষ তাদের ক্ষুদ্র আয় দিয়েই দৈনন্দিন ব্যয় মেটায়, সন্তানকে স্কুলে পাঠায় এবং কিছু সঞ্চয়ও করে, যাতে চিকিৎসাজনিত জরুরি মুহূর্তে কাজে লাগে। বেশির ভাগ গ্রামের মানুষ শহরের বা বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্সের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক সংকটে, সবর্ত্রই মানুষের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশে যেখানে ৯০ শতাংশ কর্মী বা শ্রমিক অনানুষ্ঠানিকভাবে কর্মে জড়িত, স্বাস্থ্য বীমা যাদের কাছে বিলাস, যেখানে বেশির ভাগ বাড়িতেই ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানে করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনে থাকা কতজন শ্রমিক বাড়িতে বসে কাজের সুযোগ পাবে? আর অন্তত ৫০০ টাকা আয় করতে পারবে?

কভিড ১৯ বা করোনা ভাইরাস অবশ্যই জনস্বাস্থ্যের দিক থেকে মানবিক সংকট তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে বড় আকারে সামাজিক দুরত্ব বা মানুষে মানুষে দুরত্ব বজায় জরুরি। তবে অর্থনৈতিক ধাক্কা যা আসছে, তাতে দেশের বেশির ভাগ মানুষকে খাদ্যের সংকটে পড়তে হবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই। এটি প্রশমনে অবশ্যই পথ খুজে বের করতে হবে। শহুরে দরিদ্র মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের একেক বেলা না খেয়ে কাটানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এসব লোকজন যাতে বাঁচতে পারে সেই পথ খুঁজে বের করতে হবে। তাদের যদি ঘরে বন্দি থাকতে হয়, তবে তাদের খাদ্য বা জরুরি ভিত্তিতে নগদ অর্থ সরবরাহ দরকার। এক্ষেত্রে মোবাইল মানি প্রোভাইডাররা তাদের এজেন্টদের সক্রিয় রাখতে পারে। আর আমাদের একটি আর্থিক পদ্ধতি বের করতে হবে, যাতে একেবারে গ্রামের প্রান্তিক জনের হাতে, প্রত্যেক ঘরে অর্থ পৌঁছানো যায়।