গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং-সানেম মনে করে, করোনাভাইরাস জনিত বর্তমান সংকটের সময়ে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিশাল দরিদ্র এবং আর্থিকভাবে অসহায় জনগণের কর্মহীনতা এবং আয়হীনতার পরিপ্রেক্ষিতে এই জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। চারটি ব্যবস্থা অতি দ্রুত নেয়া প্রয়োজন।

সানেম বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় যে দরিদ্র জনগোষ্ঠির তালিকা সরকারের কাছে আছে তার ভিত্তিতে অতি দ্রুত স্থানীয় পর্যায়ে সংকটকালীন সময়ে অপরিহার্য খাদ্য বিতরণ করতে হবে। অতি দ্রুত নতুন তালিকা তৈরী করতে হবে যাতে বাদ পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠি এবং আর্থিকভাবে অসহায় জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তারেকে অপরিহার্য খাদ্য বিতরণ করার কর্মসূচির আওতায় আনা যায়। 

তালিকা তৈরি ও হালনাগাদ করতে, খাদ্য বিতরণে, এবং পুরো প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাকর্মী এবং বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান (যেমন ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক) যৌথ ভাবে কাজ করতে পারে। বেসরকারি খাতের সক্ষম ব্যক্তিদের এবং বেসরকারি খাতের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর (যেমন বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, ডিসিসিআই) তাদের আওতাধীন শ্রমিক-কর্মচারীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান  বলেন, 'সরকারি দারিদ্র আয়সীমা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে শতকরা ২০শমিক ৫ ভাগ জনগণ রিদ্র। এই হিসাবে দেশেরিদ্র জনগণের সংখ্যা তিন কোটি ৪০ লাখ। দেশে দরিদ্র এবং আর্থিক অসহায় জনগণের সংখ্যা এখন প্রায় ৭ কোটির কাছাকাছি। শহরে এবং গ্রামে খাদ্য নিরাপত্তার এই চ্যালেঞ্জ ভিন্ন রূপের হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।