করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশজুড়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষ যখন ত্রাণের জন্য প্রশাসন ও তাদের নিজ নিজ আসনের সংসদ সদস্যের দিকে তাকিয়ে, তখন অনেক এমপিকেই তাদের সংসদীয় এলাকার মানুষের পাশে দেখা যাচ্ছে না।

তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনের এই এমপি নিজ সংসদীয় এলাকায় অবস্থান করেই দুঃসময়ে নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগেই ঢাকা থেকে নিজ সংসদীয় এলাকাও যাওয়া মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সাধারণ ছুটির এই পুরো সময়টাতে এলাকাতেই আছেন। সরকারি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে তিনটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে গিয়ে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে পরামর্শ প্রদান ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণসহ নানা কাজে সরাসরি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবারও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরে দুস্থদের মাঝে  নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। আর এ কাজে তিনি সামিল করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীদের।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমি দশম শ্রেণির ছাত্র। আর তখনই স্কাউট সদস্য হিসেবে নোয়াখালীতে গিয়েছিলাম রিলিফ নিয়ে। সেই থেকে শুরু, আর আজ পর্যন্ত সব দুর্যোগে রিলিফ কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই সরাসরি জড়িত থেকেছি।’

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল বারি জানান, সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমপি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও  লোকজনের মাঝে প্রচুর ত্রাণ বিতরণ করছেন। তিনি বলেন, 'অনেক স্থানে লোকজন যেখানে তাদের এমপিকে এলাকাতেই পাচ্ছে না, সেখানে  আমাদের এমপি প্রথম থেকেই এলাকাতেই আছেন আর দিনরাত কাজ করছেন।’

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বেদে, গাড়িচালক, চা শ্রমিক থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহায়তা দিচ্ছেন এমপি মাহমুদ উস সামাদ। এছাড়াও প্রবাসে থাকা লোকজনের দেশের বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের তিনি তার ব্যক্তিগত ফোন নম্বরে কল করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ পর্যন্ত শতাধিক প্রবাসীর পরিবারের কাছে বাজার পাঠিয়েছেন।

মাহমুদ উস সামাদ জানান, সরকারি সাহায্যের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ টাকার সামগ্রী ত্রাণ বা সহযোগিতা হিসেবে তিন উপজেলার মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমার পরিবার ঢাকায়, আর আমি সার্বিকভাবে সবার স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় সেখানে যাচ্ছি না। কাজের জন্য যেখানেই যাচ্ছি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছি। কিছুদিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, হয়তো সেখানেও যাব না, কারণ এখন এলাকায় থাকাটা বেশি প্রয়োজন।'