করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি ক্রাণ কার্যক্রমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্রাণ কমিটির অংশগ্রহণ যেনো স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ দাবি জানিয়েছে। 

ত্রাণ বিতরণে সহায়তায় ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত ত্রাণ কমিটি কমিটি গঠন করছে আওয়ামী লীগ। এ প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী চুরি ও আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও তাতে দলীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার যেসব খবর গণমাধ্যমে আসছে, তাতে দলীয় ‘ত্রাণ কমিটি’ কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে তা নিয়ে সংশয় থাকা অস্বাভাবিক নয়।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে সারাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। কলকারখানাও বন্ধ। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে বলছেন, এতে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন অবস্থায় আছেন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন করোনা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থায় বেকার হয়ে যাওয়া মানুষ। তাদের সবার কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছাতে হবে। এক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা বা ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের কোনো সুযোগ নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টিআইবি আশ্বস্ত হতে চায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব ত্রাণ কার্যাক্রমে কঠোরভাবে প্রতিফলিত হবে। নতুন যে দলীয় কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা তখনই রাখতে পারবে, যখন তারা দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থাকতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, দেশের নানা প্রান্ত থেকে ত্রাণ আত্মসাৎ ও চুরির যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে জড়িতদের প্রায় সবারই দলীয় পরিচয় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় নতুন করে দলীয় ত্রাণ কমিটি গঠনের উদ্যোগ অনিয়মের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিবে কী না, এমন আশঙ্কা অমূলক নয়।

ত্রাণে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দলীয় ত্রাণ কমিটির ভূমিকা যেন স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কোনোভাবেই যেনো তা প্রশাসনের ওপর দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং অনিয়মের মহোৎসব করার প্ল্যাটফর্মে পরিণত না হয়। ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে উপকারভোগীদের তালিকা, ত্রাণের পরিমাণ এবং বিতরণের তারিখ ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছে টিআইবি।