করোনা দুর্যোগ দেশের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ কাটলেও এর প্রভাব থাকবে অনেকদিন। আর এ সময় দেশের ঘুরে দাঁড়ানোয় যেসব শিল্প অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে তার মধ্যে পর্যটন অন্যতম। আমরা বিশ্বব্যাপী আমাদের পর্যটনকে রপ্তানি করতে পারলে এই পর্যটনই দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন, পর্যটন শিল্পের সংগঠনগুলোর নবগঠিত জোট ‘সম্মিলিত পর্যটন জোট’ নেতারা।

শুক্রবার বিকেলে করোনার কারণে সামাজিক দূরত্বের স্বার্থে অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে আযোজিত জোটের বৈঠকে এ সব কথা বলেন ‘সম্মিলিত পর্যটন জোট’ নেতারা।

সভায় সম্মিলিত পর্যটন জোটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘পর্যটনকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হলে আগে সবল করতে হবে পর্যটন ব্যবসায়ীদের। এখন সময় এসেছে পর্যটন সম্ভাবানা নিয়ে নতুন করে ভাবার। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যেমন দেশের ঘুরে দাড়াঁনোকে দ্বিতীয় বিপ্লব বলেছিলেন এবার পর্যটনকে সমানে এনে তৃতীয় বিপ্লবের ঘোষণা দেয়ার সময় এসেছে। আর এ জন্য জোটের ঘোষিত ৬ দফা আমলে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে পর্যটন নীতি।’

পর্যটনকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা না করায় এখনও তেমন সুফল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে শিগগিরই রাষ্ট্রীভাবে পর্যটনকে শীল্পের আওতায় আনার দাবি করেন মোখলেছুর রহমান।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যাক্সপ্লোরারস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ও সম্মিলিত পর্যটন জোট এর প্রথম যুগ্ন-আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সাগর বলেন, ‘করোনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি- আমাদের দেশ প্রকৃতিকভাবে কতটা সমৃদ্ধ। আমরা এতদিন না বুঝে শুধু পর্যটন করেছি, পরিবেশ নিয়ে ভাবিনি। এখন সময় এসেছে প্রকৃতির সহ্যক্ষমতা নির্ণয় করে পর্যটন কিভাবে করা যায় তা নিয়ে ভাবার। সরকারের উচিত হবে জোটের ৬ দফা আমলে নিয়ে পর্যটন কেন্দ্রের ক্যারিং ক্যাপাসিটি নির্ধারণ করে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করা।’

ট্যুর অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন অফ কক্সবাজার (টুয়াক) এর সভাপতি ও সম্মিলিত পর্যটন জোট এর যুগ্ন-আহবায়ক রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘কক্সবাজারকে দেশের পর্যটন রাজধানী বলা হলেও সবসময় পর্যটনের সিদ্ধান্ত হয়েছে ঢাকা থেকে। কক্সবাজারের ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা খুব একটা দেখাও হয়নি। এ জোট হওয়ায় এখন আমরা তৃণমূলের কর্মীরাও কথা বলতে পারছি। তৃণমূলকে রেখে কোনোভাবেই পর্যটন সমৃদ্ধ করা সম্ভব নয়। সরকারকে এ বিষয়গুলো ভেবে নীতিনির্ধারণ করতে হবে।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থা সাধারণ সম্পাদক ও জোটের কার্যকরি সদস্য সামসুল হক বলেন, ‘করোনা দুর্যোগ আমাদের অনেকগুলো ত্রুটি ধরে দিয়েছে। এখন সুযোগ এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই সরকারকে পর্যটন নিয়ে ভাবতে হবে। এই পর্যটনকেই রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান পণ্য হিসেবে রূপ দিতে হবে। কেননা প্রাকৃতিকভাবেই আমারা পর্যটন সম্ভাবনায় ভরপুর। এখন শুধু তা কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এভিয়েশন এন্ড ট্যুরিজম মিডিয়া ফোরাম এর সভাপতি ও সম্মিলিত পর্যটন জোট এর যুগ্ন-আহবায়ক কাজী রহিম শাহরিয়ার, বেকারী এন্ড পেস্ট্রি শেফ এসেম্বলি অফ বাংলাদেশ -বিপিসিএবি এর ফাউন্ডার শাহরিয়ার এ্যানি, সম্মিলিত পর্যটন জোট এর স্কলারস মোহাম্মদ নাসিমুল ইসলাম, শেকড়ের সন্ধানের সিইও শরিফুল আলম, বিটিইএ এর পরিচালক কিশোর রায়হান, আশরাফুল ইসলাম, এবিএম ইব্রাহিম, মাসুদুর রহমান, কাওসার আজিজ, কেফায়েত শাকিল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পর্যটনের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও উৎকর্ষ সাধনের জন্য গত ৯ এপ্রিল নয়টি পর্যটন সংগঠনকে নিয়ে গঠিত হয় ‘সম্মিলিত পর্যটন জোট’।