দেশের হাওরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওইসব জেলায় বাইরে থেকে আসা ধানকাটা শ্রমিকদের থাকার সুবিধার জন্য ওই বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো ব্যবহৃত হবে। সোমবার মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ ছাড়া আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকায় এবার বোরো ধান দ্রুত কাটার সুবিধার জন্য প্রাথমিক শিক্ষকদের সহযোগিতাও চেয়েছে মন্ত্রণালয়। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে কৃষকদের পাশে দাড়াঁতে সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষকদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন সমকালের কাছে এর সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার হাওড় অঞ্চলের জেলাসমূহে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগাম বন্যার আভাস দিয়েছে। হাওড় এলাকায় বছরে একবার মাত্র ফসল ফলে। এই ফসল আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাওড় এলাকার চাহিদা পূরণ করে এই উৎপাদিত ধান দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে থাকে। এবার করোনাভাইরাস প্রভাবের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খাদ্য সংকট হতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সেইদিক দিয়ে হাওড় অঞ্চলের ধান যথাসময়ে এবং দ্রুততার সাথে হারভেস্ট করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন’।

সচিব বলেন, ‘ধান কাটার জন্য এলাকার বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের থাকার জন্য হাওড় এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংকটেরও সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটে সম্মানিত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদেরকে তাদের প্রাক্তন ছাত্র, যারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, যাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ এবং যারা লেখাপড়া না করে অলসভাবে সময় কাটায়, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে এই চরম বিপদের সময় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জন্য কাজ করতে পারেন’।

আকরাম আল হোসেন আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস প্রাথমিক শিক্ষকরা যদি তাদের প্রাক্তন ছাত্রদের প্রকৃতভাবে অনুরোধ করেন এবং উদ্বুদ্ধ করেন, তবে তারা শিক্ষকদের অনুরোধ শুনবে। কারণ আমরা আমাদের শিক্ষকদের কথা কখনও অমান্য করি না’। সচিব জানান, হাওড় অঞ্চলের সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ডিপিও) তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।