করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারগুলোর ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। ত্রাণ যথেষ্ট পরিমাণ দেওয়ার কথা প্রশাসন দাবি করলেও তা মানতে নারাজ অসহায় মানুষজন। সঠিকভাবে ত্রাণ না পাওয়ার জন্য তারা জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করে বলেছেন, সরকার গরিবের তালিকা করলেও জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ বিতরণকালে স্বজনপ্রীতি আর নয়ছয় করায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তারা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণ চান।

রংপুর অফিস জানায়, নগরীর পুরাতন ট্রাক স্ট্যান্ড ও চারতলা মোড় এলাকা এবং বদরগঞ্জ রোডের মুন্সিরমোড় সড়ক অবরোধ করে শত শত নারী-পুরুষ। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত ত্রাণ পায়নি তারা। পরে প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোমবার গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সরকারি ত্রাণবঞ্চিত অন্তত ২০০ মানুষ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের জলিরপাড়া বাসস্ট্যান্ডে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ত্রাণবঞ্চিত জলিরপাড় ৭নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ জলিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা জামাল শেখ বলেন, সরকার সব উপজেলার প্রকৃত গরিব মানুষের তালিকা করেছে। এ তালিকা অনুযায়ী সরকার ত্রাণ পাঠায়। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা এটি নয়ছয় করে। তাই আমাদের হাতে ত্রাণ পৌঁছায় না। এ কারণে সরকারি সব সুবিধা প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। একই গ্রামের বাসিন্দা ফজর আলী শেখ ও বাদল দাস অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি করেছেন। তিনি তার দরিদ্র ও সচ্ছল সমর্থকদের ত্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা একবারও ত্রাণ পাইনি।

নাজমা বেগম নামে একজন বলেন, আমাদের এলাকার ২০০ পরিবার খুবই গরিব। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।

এর আগে বিক্ষোভের খবর পেয়ে জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগী, সাবেক চেয়ারম্যান মিহির রায়, জলিরপাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মজুমদার ও জলিরপাড় ইউপির ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর সুভাষ বৈদ্য গিয়ে ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা বাড়ি ফিরে যায়। জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান ত্রাণবঞ্চিতদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা পায়নি, তাদের তালিকা করে ত্রাণ দেব। ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর সুভাষ বৈদ্য বলেন, চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত ক'দিনে সিরাজগঞ্জের প্রায় এক লাখ ২২ হাজার হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারকে জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে ১২২৫ টন চাল ও নগদ ৪৬ লাখ টাকার সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তার পরও বিক্ষোভ হচ্ছে। উল্লাপাড়ার বালসাবাড়িতে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ভাঙনকবলিত অসহায় তাঁতিরা। রায়গঞ্জের ধানগড়ার এক নম্বর ওয়ার্ডের অর্ধশত হতদরিদ্র কর্মহীন মানুষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে গিয়ে ডিলার রুস্তমের বিরুদ্ধে ৮০টি ওএমএস কার্ডের নয়ছয়ের অভিযোগ দিয়ে বিক্ষোভ করেন। জেলা ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, কর্মহীন মানুষজনের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। 

উল্লাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে যথেষ্ট ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ঘাটতি নেই। বালসাবাড়িতে স্থানীয় জামায়াত-বিএনপির লোকজনের ইন্ধনে অবৈধ শোডাউনের বিষয় পুলিশ তদন্ত করছে। জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, ত্রাণের ঘাটতি নেই।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের খবরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও করে জেলেরা। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজনের সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষ হয়। সোমবার দুপুরে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।