রোদে কাপড় শুকানো নিয়ে দুই গৃহবধূর ঝগড়ার জের ধরে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তিন সহোদরকে নৃশংসভাবে কোপানো হয়েছে। এতে কলেজছাত্র মো. রেদওয়ান সিকদার (২০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার শিবপুর গ্রামে শনিবার মধ্যরাতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। 

রেদওয়ানের দুই সহোদর আবদুল্লাহ (১৬) ও ফয়সালকে (১২) আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে ইমরানের মা শাহিদা বেগমকে (৪৯)। 

বাউফল থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  

নিহত ও আহতরা শিবপুর গ্রামের মৃত নুর ইসলাম সিকদারের সন্তান। নিহত রেদওয়ান কালীশুরী ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

জানা গেছে, রোদে কাপর শুকানো নিয়ে শনিবার মৃত নুর ইসলাম সিকদারের বড় ছেলে  দিনার সিকদরের স্ত্রী রেশমা বেগম ও পাশের বাড়ির আলম খানের স্ত্রী শাহিদা বেগমের ঝগড়া হয়। এসময় দিনারের ছোট তিন ভাই রেদোয়ান, আবদুল্লাহ এবং ফয়সাল সিকদারও ভাবীর পক্ষে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছিল। এ ঘটনার জের ধরে আলম খানের ছেলে ইমরান শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘরের মধ্যে ঢুকে ঘুমন্ত  রেদোয়ানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কোপায়। এসময় অপর দুই ভাই আবদুল্লাহ ও মো. ফয়সাল জেগে উঠলে তাদেরকেও কুপিয়ে ইমরান পালিয়ে যায়। স্বজনরা তিনজনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেদোয়ানকে মৃত  ঘোষণা করেন । 

বাউফল ও দুমকী সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ জহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ইমরানের মা সাহিদা বেগকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইমরানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।