ফেসবুকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানো এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। তারা হলেন- ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য দিদারুল ইসলাম ভুঁইয়া, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর, লেখক মুশতাক আহমেদ ও মিনহাজ মান্নান ইমন। বুধবার ও মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে র‌্যাব। এরমধ্যে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার কিশোর ও মুশতাককে বুধবার আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর হাকিম।  

‘রাষ্ট্রচিন্তা’র সদস্য ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ দিদারুল ইসলাম ভুঁইয়াকে মঙ্গলবার উত্তর বাড্ডার বাসা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত তা স্বীকার করেনি র‌্যাব। এ পরিস্থিতিতে তাকে ‘ফিরিয়ে দেওয়া’র দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পরিবার।  

র‌্যাব-৩ এর অপারেশন অফিসার এএসপি আবু জাফর মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ সমকালকে বলেন, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মঙ্গলবার কাকরাইল থেকে কিশোর ও লালমাটিয়া থেকে মুশতাককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বুধবার বাড্ডা থেকে দিদারুল ইসলাম ও বনানী থেকে মিনহাজ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। 

র‌্যাবের করা মামলার অপর আসামিরা হলেন- প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও শাহেদ আলম, সায়ের জুলকারনাইন, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ এবং ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন। র‌্যাব-৩ এর ডিএডি আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, উল্লেখিত ১১ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫/৬ জন পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘আই অ্যাম বাংলাদেশী’ নামের ফেসবুক পেজ ও তাদের ব্যক্তিগত আইডি ব্যবহার করে জাতির জনক, মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহামারী করোনা সম্পর্কে গুজব ছড়িয়েছেন। আসামিদের মধ্যে সায়ের জুুলকারনাইন, কিশোর, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও মোস্তাক আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক পেজটি পরিচালনা করে আসছেন। এজাহারে তাদের বিভিন্ন পোস্টের লিঙ্কও দিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অপপ্রচার চালানো ফেসবুক পেজের এডিটর ‘আমি কিশোর’ আইডির ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার রাতে কাকরাইলের ১২২/১ নম্বর বাসার চতুর্থ তলা থেকে সন্দেহভাজনকে ধরা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পেজটির এডিটর ও নিজের নাম আহমেদ কবির কিশোর বলে জানান। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক, ২০০টি বিভিন্ন ধরনের সিডি জব্দ করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে অপর আসামিদের সঙ্গে তার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চ্যাট (লিখে কথোপকথন) করার প্রমাণ পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোর জানান, করোনাভাইরাস, জাতির জনক, সরকার প্রধান ও সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতাদের ব্যঙ্গচিত্র দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার ব্যাপারে তাসনিম খলিল তাকে ইন্ধন দিয়েছেন। দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশে তারা বিভিন্ন অপপ্রচার চালান বলে র‌্যাবের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।    

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনলাইনে লেখালেখি করা ব্যবসায়ী মোস্তাক আহম্মেদের ব্যাপারে জানতে পারে র‌্যাব। এরপর লালমাটিয়ার ডি-ব্লকের পরুনপাড়ার ১/৮ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকেও মোবাইল ফোন, সিপিইউ জব্দ করা হয়। তিনিও রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ছড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে পরে অপর দু’জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, কিশোর ও মুশতাককে মঙ্গলবার রাতেই রমনা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার কিশোর ও মুশতাককে বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই জামশেদুল ইসলাম আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিন চান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা বেগম তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।