করোনাকাল

'দুর্যোগে মানুষকে সেবা দিয়ে স্বস্তি পেয়েছি'

করোনাজয়ী ৪ আনসার সদস্য

প্রকাশ: ২১ মে ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

বকুল আহমেদ

'করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ব্যক্তিরা সাধারণত আমাদের কাছেই জানতে চান- কোথায় সিরিয়াল দেবেন, নমুনা দেবেন কোথায়, ডাক্তারের রুম কোথায়। রোগী সামনে কাশি দিতে থাকলেও তাদের সহায়তা করেছি। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে দূরে থাকতে বলেন ডাক্তার। তখন রোগীর কাছে তার সমস্যার কথা শুনে ডাক্তারকে জানিয়েছি। দুর্যোগে মানুষকে সেবা দিয়ে স্বস্তি পেয়েছি।' কথাগুলো বলছিলেন করোনাজয়ী আনসার সদস্য আশ্রাব আলী খান।
পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) জরুরি বিভাগের গেটে দায়িত্ব পালন করেন আশ্রাব আলী। দায়িত্ব পালনকালেই তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২৪৫ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩৩ জন। তাদের মধ্যে আশ্রাব আলীসহ চারজন করোনাজয়ীর সঙ্গে কথা হয় সমকালের। চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন তারা। শিগগির তারা কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে আসাদুজ্জামান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঈমান আলী বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং মমিনুর ইসলাম হাজারীবাগে আনসার ক্যাম্পে কর্মরত।
অঙ্গীভূত আনসার সদস্য আশ্রাব আলী খান বলেন, 'করোনা ধরা পড়ার পর মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি হলেও স্বস্তি পেয়েছি এই ভেবে- দুর্যোগে মানুষকে সেবা করতে পেরেছি। যখন করোনা উপসর্গ থাকা ব্যক্তির স্বজনরাও দূরে থেকেছে, তখন তাকে সহায়তা করেছি সাধ্যমতো। এটি পরম তৃপ্তির বিষয়।' তিনি জানান, প্রথমে তার কাশি ও জ্বর শুরু হয়। এরপর মাথাব্যথা। ১৮ এপ্রিল নমুনা দেন মিটফোর্ড হাসপাতালে। পরদিন রিপোর্ট পজিটিভ আসে এবং ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। মনোবল শক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন সবসময়। অবশেষে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসায় গত ৬ মে হাসপাতাল ছেড়েছেন। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী আছেন। খুব শিগগির কর্মস্থলে ফিরবেন বলে জানান তিনি।
করোনাজয়ী অঙ্গীভূত আনসার সদস্য আসাদুজ্জামান জানান, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গেট এবং আইসিইউর গেটে ডিউটি করতেন তিনি। তাদের মাস্ক, গ্লাভস, পিপি, স্যানিটাইজারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই দায়িত্ব পালন করতে হতো প্রথম দিকে। ১৩ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ভর্তি হন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। তিনি যে কক্ষে ছিলেন, সেখানে সাতজন করোনা রোগীর মৃত্যু দেখেছেন। তিনি বলেন, 'আমার পাশের রোগী, সামনের রোগীকে মরতে দেখেছি। এ অবস্থায় খুব মানসিক চাপে ছিলাম। ভাবতাম বেঁচে ফিরব তো!' ২৭ এপ্রিল করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। ওই দিনই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এখন বিশ্রামে আছেন। কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
সহকারী আনসার কমান্ডার ঈমান আলী জাতীয় জাদুঘরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার পর ১৮ এপ্রিল রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ভর্তি হন ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালে। বলেন, 'শ্বাসকষ্ট খুব বেশি ছিল। কথা বললে কাশি বাড়ত। দিনে ৭-৮ বার আদা, লবঙ্গ, লেবু, কালোজিরা ও রসুনসহ পানি গরম করে খেয়েছি। মনোবল হারায়নি কখনও। আবার কর্মস্থলে ফিরব খুব শিগগির।' গত ৪ মে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বিশ্রামে আছেন।
আরেক করোনাজয়ী অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মমিনুর রহমান হাজারীবাগ আনসার ক্যাম্পে কর্মরত। গত ২৫ এপ্রিল তার করোনা ধরা পড়ে। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ৮ মে ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল থেকে।

বিষয় : করোনা