আম্পানের তাণ্ডবলীলা চলছে। সুন্দরবনে এটি ছোবল মারে বুধবার সন্ধ্যার দিকে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। প্রবল বেগের এই ঝড় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় এলাকা লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এ মুহূর্তে আম্পান অতিক্রম করছে ঝিনাইদহ।

রাত আড়াইটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গাছ ও দেয়ালচাপা এবং নৌকাডুবিতে বিভিন্ন স্থানে ১০ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মধ্যরাতে আবহাওয়া অফিসের ৩৭ নম্বর বুলেটিনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা জেলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্পান উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মধ্য রাতে ঝিনাইদহ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

আম্পান সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে সাতক্ষীরায়। উপকূলীয় এ জেলায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ১৪৮ কিলোমিটার। সেখানকার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, এক ঘণ্টার বেশি সময় তীব্রগতিতে তাণ্ডব চলেছে সাতক্ষীরায়। পরে গতিবেগ কমে ১০০ কিলোমিটারে নেমে আসে।

আম্পানের মূল কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ হয়ে অতিক্রম করতে শুরু করে। এ সময় সাতক্ষীরা, খুলনাসহ পশ্চিম উপকূলে ৫ থেকে ৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস বয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে জোয়ার শুরু হলে ১৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়। এতে প্লাবিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রবল ঝড়ে গাছচাপায় সাতক্ষীরা শহরে গৃহবধূ, যশোরে ঘুমন্ত অবস্থায় মা-মেয়ে, পটুয়াখালীতে শিশুসহ দু'জন, কলাপাড়ায় নৌকাডুবিতে একজন, পিরোজপুরে দেয়ালচাপায় একজন, ভোলার চরফ্যাসনে গাছচাপায় একজন, বরগুনায় একজন এবং লক্ষ্মীপুরে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এবারও সুন্দরবন ঢাল হয়ে দাঁড়ানোয় উপকূলীয় জনপদে জীবন ও সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়েছে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে অনেক বাঁধ। গাছপালা উপড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই উপকূলীয় এলাকার ৫১ লাখের মতো গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বুধবার সকাল থেকে মহাদুর্যোগের হুমকি নিয়ে এগিয়ে আসছিল আম্পান। সুপার সাইক্লোন থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলেও এর অগ্রভাগ উপকূল স্পর্শ করার সময় ঝড়ের গতি ছিল তীব্র। ওড়িশা এবং সাগরদ্বীপে প্রবল বেগে আছড়ে পড়ার পর এর বিধ্বংসী শক্তি কিছুটা কমে যায়। পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে আম্পানের অগ্রভাগ প্রবেশ করে বিকেল ৩টায়। আরও এক ঘণ্টা পরে এটি সুন্দরবন হয়ে সাতক্ষীরা উপকূল স্পর্শ করে। পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত ১০-১২ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।