'লেটস টক'-এ কোভিড-১৯ পরবর্তী তরুণদের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তরুণদের অবদান ও তাদের উন্নয়ন নিয়ে অনলাইনে হয়ে গেল 'লেটস টক' অনুষ্ঠান। ইয়াং বাংলার সহযোগিতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে অনলাইনে 'লেটস টক'-এর দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

‘কোভিড-১৯ পরবর্তী তরুণদের উন্নয়ন’ শিরোনামে আয়োজিত এবারের 'লেটস টকে' সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন ডা. নুজহাত চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তরুণদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল প্রমুখ।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সরকার মূলত ২০০৯ সাল থেকে (তরুণদের উন্নয়নে) কার্যক্রম শুরু করে। সে সময়ের পরিসংখ্যানটা যদি বলি, আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে আমাদের এনরোলমেন্ট ছিল ০.১ পার্সেন্ট। অর্থাৎ দেশের মূল শিক্ষার্থী সংখ্যার এক পার্সেন্টও টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। এটাকে সম্পূর্ণভাবে নেগলেট করা হয়েছে।'

তিনি আরো জানান, বিগত ১০ বছরে বর্তমান সরকারের নানামুখী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বর্তমানে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে মোট শিক্ষার্থীর শতকরা ১৭ ভাগ যুক্ত রয়েছে। শূন্য থেকে ১৭ পার্সেন্ট।

উপমন্ত্রী বলেন, 'আমি মনে করি এটা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে নতুন যে চ্যালেঞ্জগুলো আসছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জে তার জন্য এটা যথেষ্ট নয়। তবে আশার কথা, আমাদের তরুণ সমাজে ভোকেশনাল এডুকেশনের যে সাংস্কৃতিক ও মানুষিক পরিবর্তন দরকার ছিল সেটা এসেছে।’

কোভিড-১৯ এর মত একটি বৈশ্বিক সমস্যার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আজকে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে গেছে। আজকে প্রতিটি সেক্টরই ক্ষতির সম্মুখীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেকটি সেক্টরে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে একদম কৃষক পর্যায় পর্যন্ত তিনি প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টসের বেশিরভাগ শ্রমিক যুবক পর্যায়ের। তারা যখন বেতন পাচ্ছিলেন না তখন প্রধানমন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় আমরা ইতোমধ্যে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট চিন্তা করেছি। এর মাধ্যমে ১২ লাখ যুবককে আত্মকর্মী হিসেবে তৈরি করবো। এমন একটি লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি।’

ব্রাইড ফাউন্ডেশনের স্বর্ণ ময়ি সরকার বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর এই পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজ হুমকির মুখে পতিত হতে পারে। আমরা মনে করছি যে, সেটা আমাদের অর্থনৈতিক ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়বে।’

এদিকে ট্রাভেলস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ডা. সাকিয়া হক বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, কোভিড-১৯ এর যে কেসগুলো দেখছি, আর যে হারে শনাক্তের রেটটা বাড়ছে, তাতে সেপ্টেম্বর অক্টোবরের আগে স্কুল-কলেজ খুলবে কি না সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। ফলে স্কুল বা ইউনিভার্সিটি যেটাই হোক, প্রতিদিনই ছেলে মেয়েদের পড়ালেখায় ঘাটতি হচ্ছে। সেমিস্টার মিস হয়ে যাচ্ছে। বলা যেতে পারে যে, একটা বছর গ্যাপ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমার মনে হচ্ছে, অনলাইনের মাধ্যমে যদি কন্টিনিউ ক্লাস করা যায় তাহলে ভালো হতো।’

অনুষ্ঠানে প্যানেলে আরো ছিলেন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) সিইও ফেরদৌস আরা বেগম, ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন, ইএনএফপিএ-এর প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট ড. মোহাম্মদ মুনির হোসেন, বিডসের সিনিয়র গবেষক ড. নাজনিন আহমেদ, বিওয়াইএলসি'র প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট এজাজ আহমেদ, ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের শাকিলা ইসলাম, ডিইউসিএনইউ এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা অর্নি ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের সৈয়দ মাফিজ কামাল।