সানজিদা ডাক্তার হতে চায়, কিন্তু অনিশ্চিত শিক্ষাজীবন

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০     আপডেট: ০৩ জুন ২০২০   

আবু নাঈম তরুণ, জাবি প্রতিনিধি

সানজিদা আক্তার ইমা

সানজিদা আক্তার ইমা

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে দিনমজুর বাবার মেয়ে সানজিদা আক্তার ইমা। এই অর্জনের পরও তার শিক্ষাজীবন রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। কিন্তু সে ডাক্তার হতে চায়।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার তেলিয়া ঝাউয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। এর আগে জেএসসি পরীক্ষায়ও সে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায়।

বাবার ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই। দুই ভাইবোনের মধ্যে ইমা বড়। ছোটভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

দিনমজুর বাবা জাহিদ মিয়া কখনো কৃষিকাজ, কখনো মাটি খনন আবার কখনো অন্যের বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। যা রোজগার করেন তা দিয়ে পরিবারের খরচ বহন করা খুব কঠিন হয়ে যায়।

ইমা বলে, 'প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির কাজে মাকে সাহায্য করে পড়তে বসতাম। পড়া শেষে স্কুলে যেতাম। স্কুলের বিরতির সময় টাকা না থাকার কারণে টিফিন করতে পারতাম না। মনে মনে চিন্তা করতাম স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে পেটপুরে খাব? যখন বাড়িতে আসতাম তখন মা না খেয়ে আমার জন্য খাবার রেখে দিত। এমনও দিন গেছে স্কুল থেকে ফিরে দেখতাম ঘরে খাবার নেই। তখন না খেয়েই আবার পড়তে বসতাম।'

'আমার স্বপ্ন বড় হয়ে ডাক্তার হব। কিন্তু কলেজে ভর্তি হতে পারব কিনা- সেটাই অনিশ্চিত। কারণ কলেজে ভর্তি করানোর মত সামর্থ্য আর বাবার নেই' বলে ইমা।

বাবা জাহিদ মিয়া বললেন, 'মেয়ের রেজাল্ট দেখে আমি অনেক খুশি। কিন্তু তারপরও মেয়ে কলেজে যেতে পারবে কিনা জানিনা! ও ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি করার টাকা তো নাই। যদি কেউ আমার পাশে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।'