রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ দিতে ইইউর প্রতি অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০   

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন- ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন- ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের প্রতি চাপ সৃষ্টির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বুধবার আয়ারল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিমন কভেনের সাথে ফোনে আলাপকালে এ অনুরোধ করেন তিনি। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইটি বিষয়ে দক্ষ প্রায় ৬ লক্ষ নাগরিকসহ সকল বাংলাদেশিদের জন্য আয়ারল্যান্ডের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  ড. মোমেন ফোনালাপে সিমন কভেনকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের উচিত রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নেওয়া। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আয়ারল্যান্ড জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। 

আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরও বলেন, বাংলাদেশের আইটি খাতে দক্ষ প্রায় ৬ লক্ষ জনগোষ্ঠীকে আয়ারল্যান্ড সে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আয়ারল্যান্ডের ভিসা সহজ করার অনুরোধ জানান। এসময় তিনি তৈরি পোশাকখাতে বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ বাতিল না করার জন্য আয়ারল্যান্ডের কোম্পানিগুলোর প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিলের কারণে বাংলাদেশে এ খাতে কর্মরত প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে যাদের অধিকাংশ মহিলা। এ বিষয়ে বিদেশি ক্রেতাদের দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলাপকালে আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে অসাধারণ উদারতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়া এ রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আয়ারল্যান্ডের জনগোষ্ঠীর প্রায় এক চতুর্থাংশ। এ ছাড়া সিমন কভেনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।