প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বড়দের মতো শিশুরাও আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী গতকাল শনিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ করোনা পজিটিভই শিশু। তাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ দশমিক ৩১ শতাংশ। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের মধ্যে শিশুদের সংক্রমণের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত। মৃত্যুহারও এক শতাংশের নিচে।

দেশে এ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ৩৭৯ জন। এ হিসেবে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়ায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি। আক্রান্ত এই শিশুদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৪ শয্যার একটি করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট চালু করা হয়েছে। তবে সেখানেও নেই আইসিইউ, ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা।

এর বাইরে করোনা আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য দেশের কোনো হাসপাতালেই পৃথক কোনো ব্যবস্থা নেই। এ চিত্র থেকে সার্বিকভাবে বলা যায়, করোনা আক্রান্ত শিশু রোগীদের চিকিৎসায় নজর নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। করোনা সংক্রমণের পর আক্রান্ত শিশু রোগীদের জন্য পদক্ষেপ না থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।

শিশু রোগীদের চিকিৎসায় দেশের প্রধান বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঢাকা শিশু হাসপাতালেও আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণের পর প্রতিষ্ঠানটিতে ২২ শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়। সেখানে সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পরপরই শিশুদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কারণ প্রতিষ্ঠানটিতে করোনা ডেডিকেটেড কোনো ইউনিট নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট চালুর জন্য বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও কোনো জবাব পাননি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিতে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শফি আহম্মেদ মুয়াজ সমকালকে বলেন, ২২ শয্যার আইসোলেশন ইউনিটে রেখে তারা সীমিত পরিসরে শিশু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু এই আইসোলেশন ইউনিট চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়। কারণ সন্দেহভাজন রোগীদের এই ইউনিটে ভর্তি রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। করোনা শনাক্ত হওয়ার পর রোগীদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। রোগীদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তাদের বাড়ি পাঠাতে হচ্ছে। এসব রোগীদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে গেলে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু করোনা ডেডিকেটেড পৃথক ব্যবস্থা থাকলে তাদের হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।

পরিচালক বলেন, ডেডিকেটেড করোনা ইউনিট চালু করার জন্য বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) বদলি হয়েছেন। এরপর ওই আবেদনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পারিনি। তবে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শিশুদের সংক্রমণ পরিস্থিতি : সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুসহ সার্বিক বিষয় সংরক্ষণ করছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যানুযায়ী গতকাল শনিবার পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু ৩ শতাংশ এবং ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৭ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মোট আক্রান্ত ও মৃতদের ১০ শতাংশ শিশু। তবে শিশুর সংজ্ঞা অনুযায়ী ১ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের বিবেচনা করা হয়। এ হিসাব ধরে সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ৮ শতাংশ হতে পারে।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সমকালকে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে দুই দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই হার অনেক বেশি। এটি উদ্বেগের। আইইডিসিআর এতো শিশু আক্রান্ত হওয়ার কারণ জানার চেষ্টা করছে।

ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৭২ জন করোনা আক্রান্ত শিশু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৮ জন এবং নারী ২৪ জন। তাদের মধ্যে শূন্য থেকে এক মাস বয়সী ১৪ জন, এক মাস থেকে ১২ মাস বয়সী ১৯ জন, ১ বছর থেকে ৫ বছর বয়সী ১১ জন, ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী ২৩ জন, ১০ বছরের ওপরে ৫ জন।

এলাকাভিত্তিক বিশ্নেষণে দেখা যায়, ঢাকায় ২৬ জন, গাজীপুরে ১০ জন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় ৪ জন করে, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ জন করে, চাঁদপুর, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, শরীয়তপুরে ২ জন করে, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নড়াইল, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, বরিশাল, বরগুনা, চুয়াডাঙ্গায় একজন করে আক্রান্ত হয়েছে। এসব রোগীর মধ্যে মেডিসিন ইউনিটে ৫৮ জন এবং সার্জারি ইউনিটে ১৪ জন ভর্তি ছিলেন।

একটি শিশুও করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হননি : এসব রোগীর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ রাখার পাশাপাশি রোগতাত্ত্বিক বিশ্নেষণ করছেন প্র্রতিষ্ঠানটির এপিমেডিওলজিস্ট কিংকর ঘোষ। তিনি সমকালকে বলেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে একজনও করোনার উপসর্গ কিংবা করোনার চিকিৎসার জন্য শিশু হাসপাতালের আসেননি। তাদের মধ্যে কেউ ব্লাড ক্যান্সার, কারও জ্বর, কারও নিউমোনিয়া, সার্জারিজনিতসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসার এক পর্যায়ে করোনা সন্দেহ হওয়ার পর তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে করোনা পজিটিভি পাওয়া যায়।

করোনা পজিটিভ হওয়ার পর তাদের কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল - এমন প্রশ্নের জবাবে কিংকর ঘোষ বলেন, করোনা পজিটিভ হওয়ার পর তাদের প্রথমে সরকার নির্ধারিত করোনা ডেডেকিটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠানে ভেন্টিলেটরসহ শিশুদের জন্য আইসিইউ ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা হয়েছিল। কিছুদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিশুদের জন্য ১৪ শয্যার একটি করোনা ইউনিট চালু করা হয়। আক্রান্ত শিশু রোগীদের সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সাপোর্ট নেই।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সার্জারি করার পর শনাক্ত হওয়া শিশু রোগীরা। করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে পাঠানো হলেও তাদের সেখানে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। কারণ ওই হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের রোগীদের জন্য পোস্ট অপারেটিভ সেন্টার নেই। এ অবস্থায় আক্রান্ত রোগীদের সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে বাসাবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

আক্রান্ত শিশু রোগীদের হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে কিংকর ঘোষ আরও বলেন, শিশু হাসপাতালে আসা করোনা আক্রান্ত শিশুদের প্রত্যেকেরই জটিল শারীরিক সমস্যা রয়েছে। এজন্য তাদের হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু শিশু হাসপাতালে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট না থাকায় নিরুপায় হয়ে তাদের বাড়িয়ে পাঠাতে হয়েছে। করোনা আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলে অন্য শিশু ও তাদের অভিভাবকদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে- এ কারণে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

দু-একদিনের শিশু থেকে ১ মাস বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে উল্লেখ করে এই এপিডেমিওলজিস্ট বলেন, এই বয়সী শিশুরা কীভাবে আক্রান্ত হলেন তা জানার চেষ্টা চলছে। কয়েকটি দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি না থাকার কথা বললেও আমরা ব্যতিক্রম চিত্র দেখতে পাচ্ছি। এজন্য রোগতাত্ত্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে জানার চেষ্টা করছি, এসব শিশু তার মা-বাবা অথবা পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে নাকি অন্য কোনোভাবে সংক্রমিত হয়েছেন।

শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু রোগীদের চিকিৎসায় দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ঢাকা শিশু হাসপাতালে এখন পর্যন্ত করোনা ইউনিট চালু করা হয়নি। মাত্র ২২ শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিটে সন্দেহভাজন রোগীদের ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু করোনা শনাক্ত হওয়ার পরই শিশুদের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এসব শিশু রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় অর্ধশত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

শিশুদের চিকিৎসায় নজর দিতে হবে- মত বিশেষজ্ঞদের : শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আক্রান্ত শিশু রোগীদের চিকিৎসায় গুরুত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ এমপি সমকালকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোট আক্রান্তের মধ্যে আড়াই থেকে ৩ শতাংশ শিশু রয়েছে। চীনে ২ দশমিক ৫ শতাংশের মতো আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যান্য দেশেও প্রায় একই রকম চিত্র। কিন্তু বাংলাদেশে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি। প্রায় ১০ শতাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

শিশুদের এত বেশি সংক্রমিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ডা. আবদুল আজিজ বলেন, বাবা-মাসহ অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। কারণ সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, সঠিকভাবে হাত না ধোয়াসহ স্বাস্থ্যবিধিগুলো যথাযথভাবে মেনে না চলার কারণেই শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের তথ্য-উপাত্তগুলো বিশ্নেষণ করলে এমন চিত্রই পাওয়া যায়। সুতরাং অভিভাবকদের এ বিষয়ে বাড়তি সতর্ক হতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। তাদের জন্য ডৈডিকেটেড হাসপাতালের ব্যবস্থা করতে হবে। ওই হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, ডায়ালাইসিস সুবিধার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. আবু সাঈদ শিমুল সমকালকে বলেন, শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগনজনক। তাদের প্রতিষ্ঠানের শিশু ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত ২৬ জন করোনা আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের সাপোর্টের প্রয়োজন হলে তা সরবরাহ করা সম্ভব নয়। কারণ তাদের সেই ব্যবস্থা নেই।

ডা. শিমুল আরও বলেন, শুধু মুগদায় নয়, সারাদেশে কোথাও শিশু করোনার রোগীদের জন্য আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের সুবিধা নেই। এ নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।

তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ভিন্ন কারণ উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাঈদা আনোয়ার সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এর সঙ্গে টিউবারকোলসিস, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ, রক্তরোগসহ নানা রোগব্যাধিতে শিশুরা আক্রান্ত। এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও সংগত কারণে অনেক কম। এর ওপরে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতাও রয়েছে। এসব বহুমুখী কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে করোনায় শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুহারও বেশি। সরকারকে এসব বিষয় নিয়ে পৃথকভাবে ভাবতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. সাঈদা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৪ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট ও ১৮ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট রয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের পৃথক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইসিইউ, ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের সুবিধারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সুবিধা প্রতিদিনই সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রথমে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালেই কেবলমাত্র করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হতো। বর্তমানে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান করোনা রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫০ শয্যা ও তার ওপরে সবগুলো প্রতিষ্ঠানে পৃথক ইউনিট চালু করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশণা দেওয়া হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে। আবার অনেকে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। প্রতিটি হাসপাতালেই শিশুদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে শিশু রোগীরা সেবা পাবে। এরপরও শিশু রোগীদের জন্য পৃথক আইসিইউ, ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে করে শিশু রোগীদের চিকিৎসায় সংকট তৈরি হবে না বলে জানান তিনি।