মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে চান নুর-রাব্বানী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২০   

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অচলায়তন ভেঙে গত বছরের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৩ মার্চ। দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ অনুযায়ী এই বছরের ২২ মার্চ এই কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়। তবে মেয়াদ শেষ হবার পরও নির্বাচনের তারিখ না ঘোষণা করায় ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আরো ৯০ দিনের দায়িত্ব পায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। এই সময় পার হয়ে গেলে কমিটি আপনা আপনি ভেঙে যাবে। অতিরিক্ত মেয়াদও আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। 

করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এবং ডাকসুর খরচের অডিটসহ বিভিন্ন কাজ বাকি রয়ে গেছে বলে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে চান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও জিএস গোলাম রাব্বানী। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে সবকিছু হবে। 

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬-এর (গ) ধারায় বলা হয়েছে, সংসদে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পদাধিকারীরা ৩৬৫ দিনের জন্য কার্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন না করা যায়, তাহলে কার্যনির্বাহী পদাধিকারীরা অতিরিক্ত ৯০ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। ওই ৯০ দিনের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্ব পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া মাত্র পূর্বতন সংসদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্ধিত ৯০ দিন সময় পার হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই সংসদ ভেঙে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত তিন মাস ধরে আমরা কোনো কাজ করতে পারিনি। এখন সবকিছুই স্থবির হয়ে আছে। আমরা চাই পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের সুযোগ দেওয়া হোক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন দিয়ে ধারাবাহিতা বজায় রাখা হোক।

অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগ্রহী নয় বলে অভিযোগ করেন নুর। তিনি বলেন, গত ১৪ জুন সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে আমি পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। উপাচার্য কোনো উত্তর দেননি। ডাকসুর নির্বাচন নিয়ে বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে। এ সময় তিনি পরবর্তী নির্বাচন সঠিক সময়ে দেওয়ার বিষয়ে সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জিএস গোলাম রাব্বানী বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আমাদের অনেক কাজই অসম্পূর্ণ রয়েছে। এখনও আমাদের খরচের অডিট বাকি। মাত্র ছয় মাসের অডিট সম্পন্ন হয়েছে। ডাকসুর ফান্ডে ৯০ লাখ টাকা অব্যবহৃত রয়েছে। এই টাকাটা আমরা শিক্ষার্থীদের সহায়তায় খরচ করতে চাই।

ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘দুর্যোগকালীন সহায়তা ফান্ড’ গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ফান্ড কালেকশন করে অনেক শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাই পরিস্থতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত আমাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। এটা নিয়ে আমরা উপাচার্য স্যারের সাথে বসব।

এ বিষয়ে ডাকসু সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান  বলেন, সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হবে এবং নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসন কী ভাবছে- জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, উপাচার্যের একক সিদ্ধান্তে ডাকসু নির্বাচন হয় না। এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এতে অনেক স্টেকহোল্ডার জড়িত । তাদের সাথে কথা বলা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে মোট ৩৭ বার। ১৯৯০ সালের পর সর্বশেষ গত বছর ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন হয়।

এ সংসদের ২৫টি পদের ২৩টিই ছাত্রলীগের দখলে ছিল। শুধু ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে জয়ী হন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুর ও আখতার হোসেন।

কমিটি থেকে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি সিনেট সদস্য হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ভিপি পদে হারার পরও সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। শোভন ছাড়াও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি হয়েছিলেন ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানী, সদস্য তিলোত্তমা শিকদার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস।

চাঁদাবাজির অভিযোগের মুখে গত বছরের সেপ্টেম্বরে শোভন ছাত্রলীগের পদ খোয়ানোর পর সিনেট সদস্যের পদ থেকেও ইস্তফা দেন। পরে ওই স্থানটিই পূরণ করা হয় এজিএস সাদ্দামক হোসেনকে দিয়ে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আজ সোমবার ডাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটেও ওই পাঁচজনের মেয়াদ শেষ হবে।