যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছর তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ চাইল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০   

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনা মহামারির পরিস্থিতির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে আলাপকালে এই অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তাদের দু’জনের মধ্যে করোনা মহামারী সহ কয়েকটি চলমান ইস্যু নিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট আলাপ হয়েছে বলে সমকালকে জানান ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করেছিলেন মূলত দু’টি বিষয়ে আলোচনার জন্য। একটি হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক মানব পাচার দমন পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের অবস্থানের অগ্রগতি এবং অপরটি- করোনা মহামারি ইস্যু। এর বাইরে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানব পাচার দমনে গত দু’বছরে বাংলাদেশ কঠোর এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং এ জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মানব পাচার মুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। করোনা মহামারি নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয় উল্লেখ করেন। করোনা মহামারি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিভাবে সহায়তা করতে পারে তা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

এ সময় ড. মোমেন তাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র যে ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে তা যথেষ্ট নয়। বরং ইউরোপের বাজার থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বিপুল পরিমাণ কার্যাদেশ বাতিল হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারীরা কাজ হারাচ্ছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার জন্য। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলাপ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বর্তমানে রাখাইনে যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য দিয়ে বলেন, মিয়ানমার কথা দিয়েছিল- তারা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবে। কিন্তু গত তিন বছরে মিয়ানমার সেই পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি, বরং এখন সেখানে নতুন করে মিয়ানমারের অভিযান চলছে এবং যুদ্বাবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। মাইক পম্পেও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাার ঘোষণা দেন।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোনে আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনায় কভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলার বিষয় নিয়ে সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলাসহ কয়েকটি দ্বিপাক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।