ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

 ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী        -ফাইল ছবি

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী -ফাইল ছবি

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়েছে। তিনি বর্তমানে করোনা ভাইরাসজনিত সেকেন্ডারি নিউমোনিয়ায় ভুগছেন। তার শরীর দুর্বল।  

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে এ তথ্য জানানো হয়।  গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জিআর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়কারী মুহিব উল্লাহ খোন্দকার স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি ফেসবুক পেইজে আপ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী করোনা ভাইরাস পরবর্তী সেকেন্ডারি নিউমোনিয়ায় চিকিৎসাধীন। সপ্তাহে তিনবার ডায়ালিসিসনির্ভর বিকল কিডনির রোগী হিসেবে দীর্ঘ একমাস রোগ ভোগের কারণে তার শরীর বর্তমানে দুর্বল। হৃদযন্ত্রের প্রদাহের কারণে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে এদেশের হাজারো মানুষের দোয়া এবং সীমাহীন মানসিকতায় তিনি রোগের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাক্তার এবিএম আব্দুল্লাহ দেখতে গিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর খোঁজ-খবর নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও ডা. জাফরুল্লাহর শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত জানাতে চেয়েছেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, জিআর কোভিড-১৯ র‍্যাপিড ডট কিটের নিবন্ধন না পাওয়ায় তিনি বর্তমানে খুবই বিষণ্ন। তবে ঔষধ প্রশাসন ও বিএসএমএমইউ কিটের উন্নয়নে সহায়তা করবে জানতে পেরে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গণস্বাস্থ্যের আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড কিটের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করছে বলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী আশাবাদ প্রকাশ করেছেন শিগগিরই কিটটি নিবন্ধন পাবে এবং বিএসএমএমইউ এন্টিজেন কিটের পরীক্ষার কাজ শুরু করবে। 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের পরীক্ষায় গত ২৫ মে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর পরীক্ষাতেও তার করোনাভাইরাস সংক্রমণ ফলাফল পজিটিভ আসে। টানা তিন সপ্তাহ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর পুনরায় পরীক্ষায় গত ১৩ জুন রাতে তিনি করোনা সংক্রমণ মুক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়। 

এছাড়া ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পাশাপাশি তার স্ত্রী ও ছেলেও করোনায় আক্রান্ত হন। তবে তারা বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলেও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।