ময়মনসিংহে ধান কেনায় গতি নেই, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২০   

মোস্তাফিজুর রহমান, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

মাঠে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে ঋণ মেটাতে কৃষকেরা ধান বিক্রি শুরু করে দেন। সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য লটারিতে তালিকাভুক্ত হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর গুদামে যাচ্ছেন না তারা। সরকারি নির্দেশ মেনে কৃষকের ধান বিক্রি করতে গেলে নানা ঝক্কির মধ্যে পড়তে হয় ভেবে বাইরেই ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে কৃষকের ধান।

ময়মনসিংহ জেলায় ৪৩ হাজার ৭৭০ জন কৃষকের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক মেট্রিক টন ধান কেনার কথা থাকলেও মাত্র ১ হাজার ১০ মেট্রিক টন চাল কিনতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। এতে জেলার ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, গত ২৫ মার্চ থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় খাদ্য বিভাগকে। তালিকাভুক্ত মিলারদের কাছ থেকে ১০ এপ্রিল থেকে চাল কেনা শুরুর কথা ছিলো। ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু সরকার নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হয়েছে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান।

জেলার গৌরীপুর উপজেলায় ধান-চাল ক্রয় অভিযান শুরু হয় ৪ জুন। অথচ সে সময় কৃষক তার ধান স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। লটারির মাধ্যমে ৩ হাজার ৬০৮ জন কৃষক নির্বাচন করে প্রত্যেকের কাছ ১০৪০ টাকা মণ দরে ১ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা রয়েছে। কিন্তু ৩০ জুন পর্যন্ত উপজেলার দুটি খাদ্য গুদামে ৩ হাজার ৬০৮ জন কৃষকের মধ্যে মাত্র ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ৮ মেট্রিক টন ধান কিনেছে খাদ্য বিভাগ। তবে তালিকাভুক্ত ২৬ জন মিলারের কাছ থেকে ৮ হাজার ১৯৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চালের মধ্যে ১৭৩৭ মেট্রিক টন চাল এবং ২৪৭ মেট্রিক টন আতব চালের মধ্যে ৮ মেট্রিক টন আতব চাল কিনেছে। 

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়  আনুষ্ঠানিকভাবে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয় ১২ মে থেকে। ২ হাজার ৬৮৫ জন কৃষকের প্রত্যেকের থেকে ১ মেট্রিক টন ধান কেনার কথা থাকলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে পেরেছে। তবে ১৩ জন মিলারের কাছ থেকে ২ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চালের মধ্যে ১ হাজার ৩১৪ মেট্রিক টন এবং ৪৪৬ মেট্রিক টন আতব চালের মধ্যে ২৮ মেট্রিক টন আতব চাল কিনতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। চাল কেনার গতি থাকলেও কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় গতি নেই খাদ্য গুদামগুলোতে।  

স্থানীয় বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে পারছেন কৃষকেরা। সেখানে ধানের নির্দিষ্ট কোনো আর্দ্রতার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষকের ধান বিক্রি করতে হলে চিটামুক্ত, আর্দ্রতা ১৪ থাকা বাঞ্ছনীয়। বর্ষা মৌসুম চলায় কৃষকের ধানের আর্দ্রতা যথাযথ নেই। সরকার নির্ধারিত সময়ের পরে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর ধান কেনা শুরু হওয়ায় কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া বর্ষা মৌসুম থাকায় গ্রামের কাঁদা মাটির সড়ক দিয়ে ধান বহন করে গুদামে এনে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন এই শঙ্কায় স্থানীয়ভাবেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ধান। কৃষক দামও ভালো পাচ্ছেন।

আঠারবাড়ি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আল ফারুখ বলেন, গুদামে চাল কেনা নিয়ে জটিলতা চলায় প্রায় এক মাস গুদামের কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ জুন দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই গতি অনেক কম।

ঈশ্বরগঞ্জ খাদ্য গুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা একেএম এমরান হোসেন বলেন, বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক গুদামে ধান নিয়ে আসছেন না। কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গৌরীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব সরকার বলেন, স্থানীয় বাজারে কৃষক ভালো দাম পাওয়ায় গুদামের ধান বিক্রি করতে আসছেন না। কৃষকদের চাপও সৃষ্টি করা যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জেলায় ৪৩ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ১০ মেট্রিক টন ধান কিনতে পেরেছেন। স্থানীয় বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক গুদামে যাচ্ছেন না। কৃষকদের মুঠোফোন নম্বরেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চাল সংগ্রহ ভালো হচ্ছে।

তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অনিয়ম ঠেকাতে কঠোরতা দেখানোর ফলে ধান সংগ্রহ কমে গেছে।