বিনা চিকিৎসায় রোগীদের মৃত্যু তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০     আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি না নেওয়ায় বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক্ষেত্রে রোগী মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জাতীয় পত্রিকার সংবাদগুলো পর্যালোচনা করে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের (আইসিইউ) বেডের ভাড়া অস্বাভাবিক রাখা হলে এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুদককে এসব অভিযোগ তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়ে এই প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের কভিড থাকলে ৩৬-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টেস্ট করে চিকিৎসা অব্যাহত রাখা, ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অক্সিজেনের মূল্য নির্ধারণ এবং বিনা চিকিৎসার বিষয়ে অভিযোগ দায়েরের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইনে অভিযোগ নেওয়ার পদ্ধতি চালুরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এসব নির্দেশনা প্রতিপালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

করোনাকালে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি না নেওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণসহ কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা কয়েকটি রিটের শুনানি নিয়ে এসব আদেশ দেন হাইকোর্ট। গত ১৩ জুন হাইকোর্টে রিটগুলো দায়ের করা হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান, অনিক আর হক, আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন, এ এম জামিউল হক ফয়সাল, মো. নাজমুল হুদা, মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান এবং ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

গত মাসেও এ নিয়ে হাইকোর্ট এক আদেশ দিয়েছিলেন। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আদালতকে জানায় যে, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি না নেওয়ায় বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর কোনো অভিযোগ তাদেও মনিটরিং টিমের কাছে আসেনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এই নির্দেশ দিলেন।