করোনাভাইরাসের কারণে সরকার উন্নয়ন ব্যয়ে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। এ জন্য চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্পগুলোর তিন ধরনের অগ্রাধিকার ঠিক করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোকে উচ্চ, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে মধ্যম এবং কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে নিম্ন অগ্রাধিকারের প্রকল্প হিসেবে নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে এডিপির নিম্ন অগ্রাধিকারের প্রকল্পে আপাতত অর্থ ছাড় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সরকারের সীমিত সম্পদের ব্যয় সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে চলতি অর্থবছরের এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোর উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর 'উচ্চ অগ্রাধিকার' হিসেবে চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। 'মধ্যম অগ্রাধিকার' চিহ্নিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রকল্পের যেসব খাতে অর্থ ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী বলে বিবেচিত হবে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা নিজস্ব বিবেচনায় সেসব ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করবে। যতটুকু ব্যয় পরিহার করা সম্ভব অবশ্যই তা করতে হবে। আর 'নিম্ন অগ্রাধিকার' হিসেবে চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় আপাতত স্থগিত থাকবে। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান সমকালকে বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে প্রকল্পকে যত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে, ততটা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কেন উন্নয়ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বাধ্য হয়ে বাছাই করতে হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে নতুন ধরনের বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। অনেক প্রকল্পের সঙ্গে বিদেশি কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা সম্পৃক্ত। তাদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। তবে এই অগ্রাধিকার চিরদিনের জন্য নয়। কারণ প্রত্যেকটি প্রকল্পই সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার এডিপি নিয়েছে। এর মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা দেবে। বাকি ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা আসবে বৈদেশিক সহায়তা ও অন্যান্য উৎস থেকে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এক হাজার ৬০৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাজেটের আগে থেকেই এডিপির প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণের কাজ চলছে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলো প্রকল্প বাছাই করেছে। যেসব প্রকল্প শেষ হতে সামান্য বাকি রয়েছে এবং যেসব প্রকল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়নের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে, সেগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।

সাধারণত অর্থবছরের শেষ তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ও অর্থ ছাড়ের গতি বাড়ে। গত ২০২৯-২০ অর্থবছরের শেষ ত্রৈমাসিকেই বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। যে কারণে অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রেখে সব মনোযোগ ছিল করোনা মোকাবিলায়। ফলে গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নও অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম হয়েছে।

মন্তব্য করুন