পশ্চিমবঙ্গের প্রজ্ঞাই জেএমবির আয়েশা

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২০   

রক্তিম দাশ, কলকাতা

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সক্রিয় সদস্য আয়েশার বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলির ধনেখালি থানার ভান্ডারহাটিতে। এলাকার ছোট্ট প্রজ্ঞা দেবনাথ ওরফে নটু ওরফে নারী জঙ্গি আয়েশা, এই খবর জানতে পেরে হতবাক হয়ে গিয়েছেন হুগলির ধনেখালি থানার ভান্ডারহাটি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশবপুর সদগোপ পাড়ার বাসিন্দারা।

আয়েশার ছোটবেলায় স্কুল জীবন শুরু হয় কেশবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তী সময়ে ধনেখালি কলেজের কলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন প্রজ্ঞা ওরফে আয়েশা। পড়াশুনায় ভালো ছিলেন। গ্রামে শান্ত মেয়ে হিসেবে পরিচিত ছিল সকলের কাছে। কারো সাথেই বেশি কথাবার্তা বলতো না। 

তবে এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মাঝেই প্রজ্ঞা তার ফোন থেকে হিন্দিতে কথা বলত দীর্ঘ সময় ধরে। আমরা গ্রামের লোক হিন্দি না বোঝার কারণে সেভাবে আমলে নিতাম না। তবে এভাবে পাড়ার একটি মেয়ে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে তা আমরা কোনো দিন কল্পনা করতে পারিনি। 

আয়েশার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা যাওয়ার নাম করে বাড়ি ছাড়ে প্রজ্ঞা। পরবর্তী সময় বাড়ি থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। একটি মিসিং ডায়েরি করা হয়েছিল থানায়।  ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে ফোন করে মা গীতা দেবিকে জানায় সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে ও বিয়ে করেছে। 

প্রজ্ঞার মা গীতা দেবি বলেন, একদিন প্রজ্ঞা আমাদেরকে ফোন করে জানায়, সে বাংলাদেশে চলে গেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তারপর আমরা থানার ডাইরিটি তুলে নিই। মিনিট পাঁচেক কথা বলার পরে আর কখনো কথা হয়নি মেয়ের সাথে।

গীতা দেবি আরও বলেন, আমি মেয়েকে ফোনে বলেছিলাম যা ঘটনা ঘটেছে ভুলে গিয়ে তুই আমাদের কাছে চলে আসতে পারিস। কিন্তু মেয়ে তার জেদে অনড় ছিল। তারপর থেকেই আর কোন দিনের জন্য প্রজ্ঞার ফোন আসেনি আমার কাছে।