খামারিরা হতাশ

করোনার প্রভাব কোরবানির পশুর হাটে

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল ডেস্ক

ঈদ সামনে রেখে শনিবার বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাটে পশুর আমদানি ছিল বেশ। অভাব ছিল শুধু ক্রেতার- সমকাল

ঈদ সামনে রেখে শনিবার বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাটে পশুর আমদানি ছিল বেশ। অভাব ছিল শুধু ক্রেতার- সমকাল

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর জমে উঠছে না কোরবানির পশুর হাট। ব্যাপারীরাও গরু কিনতে যাচ্ছেন না বাড়ি বাড়ি। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক কোরবানির পশু উঠলেও ক্রেতা নেই, এ কারণে দামও কম। কম দামে পছন্দের পশুটি কিনতে পেরে ক্রেতারা খুশি হলেও নাখোশ খামারি-ব্যবসায়ীরা। লাভ তো দূরের কথা, গরু-ছাগল বিক্রি করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- আমতলী (বরগুনা) :আমতলীতে এ বছর চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে বাজারে পশুর দাম নেই। এ নিয়ে হতাশ খামারি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, শেষ সময়ে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আমতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কোরবানির জন্য তিন হাজার ২৭৯টি পশুর চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে এ উপজেলায় চার হাজার ২৭৬টি পশু আছে। এদিকে আমতলী উপজেলার পশুহাট কমিটির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনার ব্যবস্থা করা হলেও করোনা সংক্রমণ আতঙ্কে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা নেই।

দক্ষিণাঞ্চলের বড় গরুর হাট আমতলী, গাজীপুর বন্দর ও চুনাখালী বাজার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশীয় গরুতে বাজার সয়লাব। গরুপ্রতি এবার দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কমে গেছে। গরু নিয়ে ব্যবসায়ীরা বাজারে এলেও তেমন ক্রেতা পাচ্ছেন না। দু-চার জন ক্রেতা এলেও তারা তেমন দাম হাঁকছেন না। ক্রেতা বাকি বিল্লাহ বলেন, একটি মাঝারি সাইজের দেশি গরু ৪৫ হাজার টাকায় কিনেছি। গত বছর এ ধরনের গরুর দাম ছিল ৫৫-৬০ হাজার টাকা। আমতলী গাজীপুর বন্দরের গরু ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান হাওলাদার বলেন, এখন পর্যন্ত দুটি গরু বিক্রি করেছি। তাতে লাভ হয়নি। খামারের আরও তিনটি গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) : বড়াইগ্রাম উপজেলায় এ বছর চাহিদার তুলনায় আট হাজার কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে বাজারে দাম কম। পছন্দের পশু তুলনামূলক কম দামে কিনতে পেরে ক্রেতারা খুশি হলেও হতাশায় ভুগছেন বিক্রেতারা। উপজেলার চরগোবিন্দপুর এলাকায় অ্যাফোর্ড এগ্রো ফার্মের মালিক শীতল গনসালভেস বলেন, আমার খামারে এবার ১৮টি ষাঁড় ও চারটি মহিষ রয়েছে। এলাকায় পশুগুলোর দাম যেভাবে বলা হচ্ছে তাতে আসল উঠবে না। আবার ঢাকা বা দূরবর্তী এলাকায়ও নেওয়া যাচ্ছে না। চরম হতাশায় আছি। একই ধরনের কথা বলেন অন্য খামারিরাও।

সরেজমিন উপজেলার বৃহত্তর পশুর হাট মৌখাড়ায় শুক্রবার দুপুর ১২টায় দেখা যায়, ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের গরু-ছাগলে হাটের নির্ধারিত স্থান পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বাজিতপুরের উজ্জ্বল হোসেন বলেন, একটি গরু নিয়ে এসেছি প্রায় সাড়ে তিন মণ ওজন হবে; ভেবেছিলাম ৭০ হাজার টাকা হবে। কিন্তু কেউই ৫০ হাজারের বেশি দাম বলছে না।

আহম্মেদপুরের গরু বিক্রেতা সাদেক আলী নিয়ে এসেছেন কালো রংয়ের বিশাল একটি ষাঁড়। তিনি এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দাম হাঁকলেও, ক্রেতারা দাম বলছেন লাখ টাকার মধ্যেই।

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) : সাটুরিয়ায় কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দুই হাজার খামারি ও কৃষক। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দুই হাজার পশু খামার রয়েছে। এসব খামারে কোরবানির পশু রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। কিন্তু করোনাকালে পশুর বেচাকেনা নিয়ে সংশয় আছে। বালিয়াটির খামারি আবুল হোসেন বলেন, গতবার বিক্রি না হওয়া তার গরুটির ওজন এখন দাঁড়িয়েছে ৩০ মণে। এবারও যদি বিক্রি না হয় তাহলে তাকে পথে বসতে হবে। সাটুরিয়া উপজেলা পশু ব্যাপারী সমিতির সভাপতি শাহানুর মিয়া বলেন, দুই মাস আগে থেকেই আমরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কোরবানির পশু কিনে রাখি। এবার একজন ব্যাপারী একটিও গরু কিনতে পারেননি।

শ্রীপুর (মাগুরা) : শ্রীপুর উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় চারশ' গরুর খামার রয়েছে। খামারিরা এক বছর ধরে এসব খামারে গরু লালন-পালন করে আসছেন ঈদুল আজহায় লাভে বিক্রির জন্য; কিন্তু লাভ তো দূরের কথা পশু বিক্রি নিয়েই দুশ্চিন্তা কাটছে না তাদের।

খামারি রবি খোন্দকার জানান, এ বছর খামারে ব্যাপক ব্যয় হয়েছে। কারণ গো-খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এক বস্তা ভুসির দাম দুই হাজার টাকা। তা ছাড়াও বিচালী, খোল, কুঁড়া এমনকি গরুর চিকিৎসার খরচও বেশি। এত ব্যয়ের পর যদি কাঙ্ক্ষিত দামে গরু বিক্রি না করতে পারি, তাহলে কষ্টের শেষ থাকবে না।